বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মানুষের মতো মুখ ছাগলের! পূজা শুরু গ্রামবাসীর!  » «   বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি  » «   সকল মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কর্ণার স্থাপনের নির্দেশ  » «   সৌদি থেকে ফিরেছেন আড়াই হাজার বাংলাদেশী  » «   ভারত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি  » «   সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় : ব্রিটিশ সরকার  » «   জেনে নিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিজদার উপকারিতা  » «   দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সরকারি তালিকাভুক্তি বাতিল  » «   কমলগঞ্জে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতির অভিযোগ  » «   জুড়ীর বিএনপি নেতা চুনুকে কুলাউড়া থেকে গ্রেপ্তার  » «   হাওরপাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বন্ধু ইউএনও রুমা  » «   মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের শোক  » «   গোলাপগঞ্জে ফুলবাড়ী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   জান্নাতে যাওয়ার সহজ মাধ্যমগুলো!  » «   জগন্নাথপুরে কদরিছ মিয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড়  » «  

জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর রিকশা চালক হত্যা মামলার অপর আসামী পলাতক

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর রিকশা চালক জামির মিয়া হত্যা মামলার অপর আসামী আজিদ মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
জানাযায়, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হাবিবনগর গ্রামের এখলাছ মিয়ার ছেলে সাকিল ওরফে সেকেল মিয়ার একটি রিকশা গ্যারেজ রয়েছে হাবিবনগর গ্রামের ছিলিমপুর স্ট্রেট মার্কেটে। এ গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি থানার আসাদপুর গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে জামির মিয়া। হঠাৎ করে বেশ কিছু দিন আগে রিকশা চালক জামির মিয়ার পরিচিত এক ব্যক্তি এ গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নেয়ার সময় তার জিম্মাদার ছিলেন জামির মিয়া। কয়েক দিন পর ওই ব্যক্তি রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় শালিস বৈঠকে ১৮ হাজার টাকা ভর্তুকি দেয়ার দায় পড়ে রিকশা চালক জামির মিয়ার উপর। প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে প্রদানের রায় দেয়া হয় এবং এভাবেই টাকা পরিশোধ করছিলেন জামির মিয়া। এতে বাধ সাধে ঈদ। ঈদের সময় রিকশা চালক জামির মিয়া তার দেশের বাড়ি যেতে চাইলে বাধা দেন গ্যারেজ মালিক সেকেল মিয়া। তার ধারনা সে চলে গেলে আর আসবে না। যে কারণে গত ১৩ আগষ্ট থেকে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে রিকশা চালক জামির মিয়াকে বেধে রেখে মারপিট করেন সেকেল মিয়া। ঘটনার ৩ দিন পর ১৬ আগষ্ট জামির মিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেল দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান সেকেল মিয়া। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলেও তাকে ওসমানীতে নেয়া হয়নি। ঘটনার প্রায় ২ ঘন্টা পর স্থানীয় সিলেটী বাস স্ট্যান্ড নামক স্থানে রিকশা চালক জামির মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিকশা চালক জামির মিয়ার স্ত্রী জামেনা বেগম বাদী হয়ে নির্যাতনকারী সেকেল মিয়া ও আজিদ মিয়া সহ ২ জনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭, তারিখ-১৭/০৮/২০১৯ ইং। এ ঘটনায় পুলিশ সেকেল মিয়াকে গ্রেফতার করলেও অপর আসামী আজিদ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় ২০ আগষ্ট মঙ্গলবার সরজমিনে হাবিবনগর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাওনা টাকার জন্য রিকশা চালক জামির মিয়াকে শিকল দিয়ে গ্যারেজ মালিক সেকেল মিয়া তার ঘরে বেধে রেখেছিল। ঘটনার ৩ দিন পর জামির মিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল মিয়া যায় সেকেল মিয়া। পরে স্থানীয় সিলেটী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর সেকেল মিয়া পালাতে চাইলে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সুহেল আহমদের সহযোগিতায় সেকেল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেদিনের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, ইমার্জেন্সী বিভাগে জামির মিয়াকে নিয়ে আসা হলে দেখা যায়, তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ সময় জামির মিয়া নিজে জানায়, তার বুকে প্রচন্ড ব্যথা। হার্ট এ্যাটাকের লক্ষণ। যে কারণে তাকে আমি সিলেট ওসমানীতে রেফার করেছিলাম। পরে কি হয়েছে আমি জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে মারপিটের কোন কথা সে বলেনি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান বলেন, মামলার প্রধান আসামী সেকেল মিয়াকে গ্রেফতারে পৌর কাউন্সিলর সুহেল আহমদ পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। তবে অপর আসামী আজিদ মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/কা-আহমেদ/ব/১২/এ/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -