রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
কমলগঞ্জে নতুন জাতের টমেটো চাষে স্বাবলম্বী কৃষক  » «   বিশ্বনাথে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিছিল, আটক ৫  » «   বড়লেখায় বানর আতঙ্কে মানুষ, আহত ২৫,  » «   ফাতেমার আকুতি: ‘আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’  » «   পাকিস্তানি অভিনেত্রী সামারার নগ্ন ভিডিও ফাঁস (ভিডিও)  » «   জেলা সভাপতি পদে আসছেন কয়েস, মাশুক নাকি শফিক ?  » «   তাহিরপুর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন স্থগিত  » «   সিলেট জেলা ও মহানগর আ. লীগের সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর  » «   জাতীয় ক্রিকেট লীগে প্রথম স্তরে উঠলো সিলেট  » «   সিলেটে হঠাৎ করে ডিজেল সংকট চরমে  » «   ভেঙে দেয়া হচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপি’র অধিভুক্ত ১৭ ইউনিট  » «   বাজারে নতুন পেঁয়াজ, কমছে দাম  » «   হংকংয়ে সরকারবিরোধী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ  » «   বিশ্বনবীর কাছে জিবরাইল (আ.)-এর যেসব প্রশ্ন  » «   ৭৪ বছরের বৃদ্ধার সঙ্গে ২১ বছরের যুবকের সুখের সংসার!  » «  

ছাতকের যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে ১১ গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা ও মিছিল

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বড়কাপন পয়েন্টে কলেজ ছাত্রীদের হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ১১ গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ছাতকের স্থানীয় কপলা বাজারে উক্ত মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট মুরব্বী রাকিব আলীর সভাপতিত্বে ও মুহি উদ্দিন লিলু মিয়ার পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কপলা গ্রামের পক্ষে- মো. আছন আলী, মো. এরশাদ আলী, মো. নুর আলী, মো. আলকাছ আলী, মো. জমির আলী, সুরিগাঁও গ্রামের পক্ষে- সিরাজ আলী, আসকর আলী গেদা, গোলাম হোসেন, মো. আবু বক্কর, মোগলগাঁও গ্রামের পক্ষে- মো. আব্দুল হক, মো. আব্দুল করিম, মো. রোয়াব আলী, আতারগাঁও গ্রামের পক্ষে- মো. ছোরাব আলী, হাজী কদ্দুস আলী, মো. বাছিত মিয়া, কামরাঙ্গি গ্রামের পক্ষে- মো. আজাদ মিয়া, মো. বকন মিয়া, আব্দুস সাত্তার, মো. রজাক আলী, দুদু মিয়া, মনিয়ারসের গ্রামের পক্ষে- আব্দুর রউফ, ডা. আব্দুল কালাম, আব্দুল আউয়াল, উশাইরগাঁও গ্রামের পক্ষে- মো. হাছন আলী, মো. সামসুল হক, সুনামনি নাথ, মছলন্দরগাঁও গ্রামের পক্ষে- মো. আবুল লেইছ, ফয়জুল করিম, কমর আলী, আব্দুল বারি, নলুয়া গ্রামের পক্ষে- মো. আব্দুল বারী, মনির মেম্বার, হবি মেম্বার, আতাবুল মিয়া, ছইল মিয়া, বাজার কমিটির সভাপতি মো. বিলাল আহমদ, দলশি গ্রামের পক্ষে- হাজী আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার, মাসুম আহমদ, দিলু মিয়া, ডা. আমির হোসেন, এলাইছ মিয়া, নুর উদ্দিন, ফখর উদ্দিন, কাপ্তান মিয়া, সুরুজপুর গ্রামের পক্ষে- মাওলানা আছাব আলী প্রমুখ।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়- শ্রীপুর থেকে সরাসরি জাউয়াবাজার গাড়ি চালানো ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ৬০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। মাননীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে স্বাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন- ছাতক থানাধীন জাউয়া বাজার ইউনিয়নের কপলা, সুড়িগাঁও, মোগলগাঁও, সুরুজপুর, চরমহল্লা ইউনিয়নের কামরাঙ্গি, আহারগাঁও, মনিয়ার সের, পান্ডারগাও ইউনিয়নের জলসী, নলুয়া, উশাইর গাঁও, মছলন্দরগাঁও সহ আশপাশ এলাকার জনসাধারণ দীর্ঘদিন যাবত শ্রীপুর হতে কপলা ও বড়কাপন হয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে তথাকথিত বড়কাপন পয়েন্টে গাড়ী সংগঠন নাম করে মাঝপথে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে অন্য গাড়িতে জাউয়া বাজার পাঠায়। এতে কৈতক হাসপাতালগামী রোগী ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনগন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ যাত্রীরা সরাসরি জাউয়াবাজারগামী, মাঝপথে নামার কোন প্রয়োজন নেই। তবুও বিনা কারণে গাড়ী সংগঠন তাদের নিজস্ব ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে যাত্রীদের ভুগান্তি দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। যার কারণে কলেজ শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত সময়ে কলেজে পৌঁছতে পারেন না। হাসপাতালগামী রোগীও ঠিক এমন ভুগান্তির শিকার হচ্ছেন। লাইসেন্সবিহীন ও প্রশিক্ষণ বিহীন ছাড়া বখাটে গাড়ী চালকরা কলেজ ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে।
বক্তারা আরো বলেন- বিগত ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ মুহিবুর রহমান মানিককে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি ছাতক-দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে- শ্রীপুর থেকে জাউয়াবাজার পর্যন্ত একটানা গাড়ি চলবে। পথিমধ্যে যাত্রী নামিয়ে হয়রানি না করার জন্য গাড়ী চালকের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুরুতে কয়েকমাস এ রীতি চললেও পরে তথাকথিত গাড়ী সংগঠন আবারও যাত্রীদের জোরপূর্বক বড়কাপন পয়েন্টে নামিয়ে ভুগান্তি শুরু করে দেয়।
২০১৮ সালের ১৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেটস্থ ছাতক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বড়কাপন পয়েন্টে নামলে এক ড্রাইভারকে রিজার্ভ কপলা যাওয়ার জন্য বললে সে ৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা দাবি করে। পরে রিক্সা যোগে যেতে চাইলে রিক্সা থেকেও নামিয়ে দেয়। উক্ত বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এভাবে হাজার হাজার যাত্রীরা হয়রানির শিকার হলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। গত ২০ অক্টোবর কপলা গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ মুন্সি জামাল আহমদ গাড়ি চাইলে ড্রাইভার বলে, তোকে গাড়ী দেবনা, তুই পায়ে হেঁটে যা। গত ২৩ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় ৩জন মুরব্বি ও ১জন মহিলা যথাক্রমে হাজী আলকাছ আলী, হাজী জমির আলী, হাজী সিরাজ আলী এবং খয়রুন্নেছাকে ড্রাইভার সমিতির সমিতির অফিসে জোর করে ঢুকিয়ে ড্রাইভার আলী, আব্দুল মালিক ও কপিল উদ্দিন গং ঘরের সাঁটার বন্ধ করে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি এবং ঠেলা ধাক্কা দেয় ও একটি মোবাইল সেট হাত থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়।
উল্লেখ্য যে, কপলা থেকে বড়কাপন পয়েন্টে ভাড়া ১০টা নিলেও বহুদিন ধরে ড্রাইভাররা অযথা ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রী হয়রানি করে আসছে। ড্রাইভারদের ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে অত্র এলাকার যাত্রীরা ভুগান্তির শিকার ও জিম্মি হয়ে আসছেন। ভাড়া নিয়ে ড্রাইভাররা বিভিন্ন সময় অত্র এলাকার যাত্রীদের সাথে অযথা ঝগড়া করে আসছে।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে এলাকাবাসী স্মারকলিপি প্রদান করেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/কে-আহমেদ/প/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -