রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
জগন্নাথপুরে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  » «   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে গেছে : পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান  » «   খেয়েও কেন অপুষ্টিতে ভোগে বাংলাদেশিরা?  » «   বিস্মিত সালমান-ক্যাটরিনার ম্যানেজার!  » «   পুরস্কারের টাকায় মায়ের চিকিৎসা করাবেন স্বর্ণজয়ী অন্তরা  » «   এবার যাকে বিয়ে করছেন তাহসান  » «   প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির পাকা খেলোয়াড়, মেসির মতো গোল দেন: নাসিম  » «   সিলেটে ভারতীয় কসমেটিকসসহ যুবক আটক  » «   রাজনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ভেলাই, সম্পাদক মিলন  » «   মিথিলার বিয়ের রাতে যা লিখলেন তাহসান  » «   ঢাকায় আসছেন সালমান-ক্যাটরিনা  » «   এসএ গেমসে যে সব ইভেন্টে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ  » «   বাংলাদেশের সাথে বিয়ের মাধ্যমে নারীর সম্পর্কও হয়ে গেল: সৃজিত  » «   রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় কথিত প্রেমিক আ’ট’ক  » «   মিথিলার পর এবার অপু বিশ্বাসের বিয়ের ঘোষণা  » «  

সৌদিতে যেতে আগ্রহী নারী: ‘আমাদের স্বামীরা কি আমাদের অত্যাচার করে না?’

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :অত্যা’চা’র নি’র্যা’তনের মুখে সৌদি আরব থেকে হাজারো নারীর ফিরে আসার কাহিনী এমনকি মৃ’ত্যুর খবর জানার পরেও বাংলাদেশের বহু নারীর গন্তব্য এখনো সৌদি শ্রমবাজার।

যারা নি’র্যা’তিত হয়ে ফিরে এসেছেন তারা সবাই চান, সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করা হোক। কিন্তু বিদেশ যেতে ইচ্ছুক নারীরা ব’ন্ধ করাটাকে সমাধান মনে করছেন না। তারা চাইছেন নি’রা’প’দ অভিবাসন।

ঢাকার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিদেশ যাবার আগে এক মাসের প্রশিক্ষণে আছেন এরকম অনেকে। আরবি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান, গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার শিখছেন অনেকে।

ক্লাসরুমে জিজ্ঞেস করলে দেখা যায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ নারী যেতে চাইছেন সৌদি আরবে। এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন – যারা আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এখন আবার যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাবিনা নামের একজন সৌদি আরবে চার বছর কাজ করে এসেছেন। বেতন এবং কাজের পরিবেশ ভাল পেয়েছিলেন বলেই আবার যাচ্ছেন। সৌদি আরবই তার পছন্দের দেশ।

অন্যদিকে কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই দালালের মাধ্যমে সৌদি গিয়ে নি’র্যা’তনের শি’কা’র হয়ে ফিরেছেন ময়না। তিনমাসের মাথায় আবার তিনি বিদেশ যেতে চাইছেন। তবে সৌদি আরবে যাবেন না কখনোই। তার দাবি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সৌদিতে যেন কোনও নারীকে পাঠানো না হয়।

বিদেশে যেতে ইচ্ছুক এসব নারীর সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় বেশিরভাগই স্বল্প-শিক্ষিত ও হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা। অভাব-অনটনের সংসারে উন্নত ভবিষ্যতে স্বপ্ন নিয়ে তারা পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশ যেতে চান।

তাসলিমা ইসলাম নামের একজন বলছিলেন, “সমস্ত দেশ খোলা থাকুক, আমরা বাঁচতে চাই, খাবার চাই, পরনের কাপড় চাই, নিজের একটা অধিকার চাই।” তাসলিমারও সৌদি আরবে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তিনি মনে করেন, সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাসকে আরো তৎপর হতে হবে।

সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যারা আসেন তাদের একটা বড় অংশেরই সৌদি আরবে যাবার আগ্রহ। এর মধ্যে অনেকেই জানান তাদের আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীরা তাদের নিয়ে যাচ্ছেন, ভরসা দিচ্ছেন।

সৌদি আরবে যেতে নারীদের কোনও টাকা লাগে না, পুরো খরচ বহন করে নিয়োগকারী। নির্যাতিত হয়ে ফেরত আসা সবাই নারী পাঠানোতে আপত্তি করলেও যারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তাদের একটা বড় অংশ আর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও চান, সৌদি আরবে নারী পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু থাকুক।

সৌদি যেতে ইচ্ছুক শিমু আক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এত অ’ত্যা’চার নি’র্যা’তনের খবর আসছে, তারপরেও কেন সৌদি যেতে চান তিনি?

এর উত্তরে শিমু বলেন, “হ্যাঁ, আমরা শুনতেছি কিন্তু আমাদের স্বামীরা কি আমাদের অ’ত্যা’চার করে না? কেউ কি নিজের দেশ ছাইড়া, ছেলেমেয়ে রাইখা বিনা কারণে বিদেশ যায়? আমরা বন্ধ হোক এটাও চাই না, আবার ওইখানে গিয়ে নি’র্যা’তনের শি’কা’র হই – এটাও চাই না।”

বিদেশগামী মেয়েদের নিয়ে কাজ করছেন খালেদা সরকার। তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশের স্বল্প শিক্ষিত হত-দরিদ্র পরিবার থেকেই মেয়েরা মূলত সৌদি যাচ্ছেন। পরিবারে সম্পর্কের জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাবেই নারীরা বিদেশে যাবার ঝুঁকি নিচ্ছে।

শিমু বলেন, “এটা কখনোই বন্ধ হবে না, বরং আমাদেরকে দেখতে হবে মানুষের অধিকার, মানবাধিকার এবং তাদের নিরাপত্তার জায়াগুলোকে আরো বলিষ্ঠ করতে হবে।”

এদিকে বাংলাদেশ থেকে এপর্যন্ত সোয়া ৩ লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন নারী সৌদি আরবে গিয়েছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশনের তথ্যে চলতি বছরে এ সংখ্যা ৫৩ হাজার ৭শ ৬২ জন। এরমধ্যে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন ভ’য়ং’ক’র নি’র্যা’ত’নের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

গত চার বছরে লাশ হয়ে ফিরেছেন ১৫৭ জন নারী। চলতি বছরের গত এগার মাসে সৌদি থেকে ৫৩ জন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীর মৃতদেহ এসেছে। এ অবস্থায় এখনো যারা যাচ্ছেন তাদের শেখানো হয় বি’প’দে পড়লে তারা কোথায় যাবে, কী করবে।

শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ শাহেল আরা বলেন, “আমরা ওদেরকে দূতাবাসের ফোন নাম্বার, যোগাযোগ করার মত কিছু নম্বর এবং মেসেজ ওদের দেই। এমনভাবে ওদের শেখানো হয় যাতে বিদেশে গিয়ে ওরা বি’প’দগ্র’স্ত না হয়। আমরা চাই না ওখানে গিয়ে তারা ক্রীতদাস হয়ে যাক।”

নারী শ্রমিকদের নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, নিরাপদ অভিবাসন নারীর অধিকার। তবে সৌদিতে গৃহকর্মী নির্যাতনের বিষয়টি উদ্বেগজনক আর এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, তাদের সৌদি ভাষা যতোটুকু শেখানো হয় সেটা যথেষ্ট নয়। কারণ সেখানে কথ্য ভাষা ব্যবহৃত হয়। প্রশিক্ষণের মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে। এক মাসের জায়গায় তিন মাস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আবাসিক করতে হবে।

তিনি বলেন, নারীকে শুধু আরবি ভাষা, হাঁড়িপাতিলের ব্যবহার না, তাকে সংকট মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। এছাড়া দুদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। কেউ যদি ভায়োলেশন করে তাহলে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করতে হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে উ’দ্বে’গ থেকে সৌদি শ্রমবাজারে নারী-কর্মী ব’ন্ধের পক্ষে যেমন অনেকে আছে, আবার সুরক্ষা নিশ্চিত করে নারীদের পাঠানোর পক্ষেও মতামত দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সৌদিতে থাকা বাংলাদেশিদের কথা হলো: নারী কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দূতাবাসকে আরো তৎপর হতে হবে, এব! মক্কা, মদিনা, রিয়াদ বা জেদ্দা শহরের বাইরে নারী শ্রমিক না পাঠানোই সবচেয়ে ভাল। সূত্র : বিবিসি বাংলা

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/এ/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -