মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আসছে সিলেট আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি  » «   নারী বিশ্বকাপের জার্সি নিয়েও বিতর্ক  » «   কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্ল্যাহকে প্রত্যাহার  » «   বানিয়াচংয়ের শহীদ মিনার যেন ময়লার ভাগাড়!  » «   সুনামগঞ্জে মঞ্চস্থ হবে নবশিখার ‘কবর’  » «   সরকারি অগ্রগামী স্কুল এন্ড কলেজে বসন্ত বরণ  » «   সুনামগঞ্জে বিশ্বম্ভরপুরে এক শিশুকে গণধর্ষণ আটক ১  » «   গোলাপগঞ্জে প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১  » «   মেট্রোরেলের মকআপ ঢাকায়, উদ্বোধনের পরই প্রদর্শন  » «   সিলেটে এক গ্রামেই ৪০০ প্রতিবন্ধি  » «   ৩৮ পর্যন্ত ফুটবল খেলতে পারবে মেসি  » «   হিজাব পড়ে মসজিদে মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা  » «   জোড়া বোনের একজন অঙ্ক পড়ান, অন্যজন ইংরেজি!  » «   ভারতে হামলার হুমকি  » «  

ধনের ধনী বাড়ছে, মনের ধনী কই

চৌধুরী শাহেদ আকবর :এখন বিশ্বে বিভিন্ন বিষয় পরিমাপের জন্য বিভিন্ন রকম সূচক বের হয়। বিশ্বের বিভিন্ন রকম সংস্থা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জরিপ করে সূচকসহ প্রতিবেদন বের করে। এরকম একটি সূচক বের করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘চ্যারিটিজ এইড ফাউন্ডেশন (সিএএফ)’। তাদের এই সূচকের নাম হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড গিভিং ইনডেক্স’। বাংলায় যাকে বলা যায় ‘দানশীলতার সূচক’। গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পুলের সহযোগিতায় তারা এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এই সূচক অনুসারে, দানশীলতার সূচকে বিশ্বের ১২৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম। এই বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য গত ৯ বছর ধরে ১২৮টি দেশের ১৩ লাখ মানুষের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। সূচকের স্কোর অনুসারে, বাংলাদেশে অর্ধেক মানুষ অপরিচিতকে সহযোগিতা করেছেন, ১৬ শতাংশ দাতব্য কাজে অর্থ দিয়েছেন এবং স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন ১১ শতাংশ মানুষ। সূচকে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ২৬ শতাংশ। এই স্কোর তালিকার শীর্ষে থাকা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের (৫৮ শতাংশ) অর্ধেক। মাত্র ১৬ শতাংশ স্কোর নিয়ে তালিকার সবচেয়ে নিচে রয়েছে চীন। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। আর বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে পিছিয়ে আছে।
যাই হোক, সূচকের এই অবস্থানে থেকে আমরা বরং অনেকটা আশাহত পারি বিভিন্ন সূচকে আমাদের দেশের অবস্থানের সাথে এই সূচকের অবস্থানের তুলনা করলে। যেমনÑসুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস-এর রিপোর্ট (২০১৫) অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ। ওই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়েছে ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বার্ষিক মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০৬৯ থেকে ২২০১ মার্কিন ডলার। যুক্তরাজ্যের ওয়েলথ এক্স ইন্সটিটিউট নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের ধনী তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে তালিকায় বাংলাদেশের নাম সবার উপরে রেখেছে। তাদের মতে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অতি ধনী বেড়েছে বাষিক ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। এখানে তারা অতি ধনী বলতে তাদেরকে বুঝিয়েছে যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কম পক্ষে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৫০ কোটি টাকা। আরো বিভিন্ন ধরনের সূচক যেমন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্বি, শিক্ষার হার এবং মানব উন্নয়ন সূচক সহ আরো অনেক কিছুতেই আমাদের অবস্থান অনেক উপরের দিকে। কিন্তু দানশীলতার সূচকে আমাদের অবস্থান আশাব্যাঞ্জক নয়। এই সূচক ছাড়াও বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি যে আসলেই দেশে দাতাদের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে ধনী মানুষের কাছ থেকে দান।
আগের দিনের ধনীদের দানশীলতার অনেক কাহিনী আমরা শুনেছি, বইতেও পড়েছি। যেমনÑহাজী মুহাম্মদ মহসিন-এর নাম আমরা কম বেশি সবাই জানি। অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপীঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। এই রকম আরেক দানবীর ছিলেন রণদা প্রসাদ সাহা। তিনি বিভিন্নরকম ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নিজ এলাকা মির্জাপুরে ১৯৩৮ সালে তিনি মির্জাপুর গ্রামের লৌহজং নদীর তীর ঘেঁষে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ৭৫০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কুমুদিনী হাসপাতালে রূপ নেয়। নারী শিক্ষার জন্য তিনি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ভারতেশ্বরী হোমস। প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী নার্সিং স্কুল। তিনি টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজ, মানিকগঞ্জে দেবেন্দ্রনাথ কলেজ প্রতিষ্ঠা, মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও মির্জাপুর এসকে পাইলট উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। জীবনসংগ্রামে প্রতিষ্ঠা পেয়ে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হলেও তিনি ভোগ বিলাসে ব্যয় করেননি। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তার জীবনের অর্জিত সব অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল। ১৩৫০ সালের ভয়াবহ মন্বন্তরের সময় তিনি লঙ্গরখানা খুলে হাজার হাজার দরিদ্র লোককে প্রতিদিন খাইয়েছেন। অতীতে এই রকম আরো অনেকেরই দানের গল্প আমরা শুনে এসেছি। কিন্তু এই রকম দানশীলতার গল্প কি আমরা ইদানিং কালে তেমন শুনেছি? ধনীরা কি খুব সানন্দে, উদারচিত্তে দান করছেন? এর উত্তর হচ্ছে না।
কয়েকদিন আগে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে পড়েছিলাম, ২০১৮ সালে ভারতে ৮৩১ জন এমন ধনী ছিলেন, যাঁদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এঁদের গড় ধনের পরিমাণ ৫৯০০ কোটি টাকা। এই ৮৩১ জন ধনীর মধ্যে উনচল্লিশ জন (৫ শতাংশ) দেশের কল্যাণে ১০ কোটি বা তার বেশি টাকা দান করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতে ধনীদের মোট দান ছিল বাষট্টি হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। আমাদের দেশে এইসব তথ্য পাওয়া বিরল। এর একটি কারণ আমরা এখনো স্পষ্টভাবে জানিনা দেশের শীর্ষ ধনী কারা। উপরে উল্লেখিত ওয়েলথ এক্স ইন্সটিটিউট-এর রিপোর্ট বলছে, মোট সম্পদের পরিমাণ কম পক্ষে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৫০ কোটি টাকা এই রকম ধনী বাংলাদেশে আছেন ২৫৫ জন। কিন্তু এই তালিকায় কারা আছেন রিপোর্টে সেটার উল্লেখ ছিলো না। আর কিছু অনলাইন পত্রিকার সুবাদে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ ধনীর একটি তালিকা পাওয়া যায়। তবে এর সূত্র কী, তার জানা যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তালিকায় দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ সালের করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী ৫০ ব্যক্তির তালিকায় ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৭ জন। আর ৫০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন এমন সম্পদশালীর সংখ্যা ৪৬ জন। মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যা থাকে তাই নিট সম্পদ। যাই হোক, আমাদের দেশে আয়কর বিবরণীতে দেওয়ার তথ্য মেনে প্রকৃত সম্পদের হিসাব বের করা বাংলাদেশে কঠিন। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য দেওয়া হয় না।
বিশ্বে শীর্ষ ধনীদের তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করার জন্য অনেক সংস্থা আছে যারা নিয়মিতভাবে শীর্ষ ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। আমরাও বছরজুড়ে শীর্ষ ধনীদের নানা ধরনের খবরাখবর যেমন, তাঁদের শখ, তাঁদের দান, সম্পদ ওঠানামাসহ নানা ধরনের তথ্য বিভিন্নরকম সংবাদ মাধ্যমে পেয়ে থাকি। ওই সব ধনীরা তাঁদের সম্পদের তথ্য লুকান না। নিজেরাই প্রকাশ করেন। যাঁরা বিভিন্ন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক, তাঁদের সম্পদের তথ্য খুব সহজে জানা যায়। ফোর্বস বা ব্লুমবার্গ-এর মতো সংবাদমাধ্যম সারা বছর ধনীদের নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় নাম ওঠা বিশ্বের ধনীদের জন্য বিশেষ মর্যাদা বাড়ায়। কিন্তু আমাদের দেশে বিষয়টি অন্যরকম। আমরা ধন সম্পদ লুকাতে পছন্দ করি। এর প্রকৃত কারণ কি, তা বোধগম্য নয়। হয়ত একটি কারণ হতে পারে কর ফাঁকি। আমাদের ধনীদের মন এখনো সরকারকে সঠিক কর দেওয়ার মতো বিশাল হয়নি। এখানে তাই ব্যবসায়ীরা কিছু কৌশল অবলম্বন করেন। যেমনÑঅনেক অতি ধনী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেন। যখন আপনি দেখাবেন, আপনার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা চলতি মূলধন এসেছে ঋণের টাকা থেকে, তখন আপনি করদাতাদের তালিকায় না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এমন অনেক ধনী আছেন, যাঁরা অতি দামি গাড়ি চড়েন, ততোধিক বিলাসবহুল বাড়িতে বাস করেন। তবে এই বাড়ি-গাড়ি কাগজে-কলমে কোম্পানির নামে। কোম্পানির চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার কারণে কোম্পানি বাড়িতে থাকতে দেয়, গাড়িতে চড়তে দেয়। বাংলাদেশে এ রকম কৌশলী ধনীর সংখ্যাই যে বেশি, তা এনবিআরের তথ্য থেকে সহজেই বোঝা যায়। এছাড়া আমাদের ধনীদের একটি অংশ ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং অসদুপায় অবলম্বন করে ধনী হয়েছেন, তাদের অনেকেই ধন সম্পদ লুকাতে চান। তাদের লুকানোর কারণ বোধকরি অনুমেয়। কিন্তু আমাদের দেশে উত্তরাধিকারী সূত্রে যারা ধনী হয়েছেন তাদের অনেকে ও ধন সম্পদ লুকাতে পছন্দ করেন। ইংরেজিতে ‘মানিগিল্ট’ বলে একটা কথা আছে। সাধারণত, যারা কিছু না করেই উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পান, তাঁদের অনেকেরই মধ্যে একধরনের অপরাধবোধ দেখা দেয়। যাকে মানিগিল্ট বলা হয়ে থাকে। তাদের মনে কি এই মানিগিল্ট কাজ করে এবং এই জন্য কি সম্পদ লুকাতে পছন্দ করেন, কে জানে।
আবার মূল কথায় ফিরে আসি। ধনীদের দেশের কাজে দান করার দু’টি রাস্তা আছে। একটি হচ্ছে, ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি’ সংস্থার লাভের একটি অংশ জনস্বার্থে খরচ করা। সাধারণত বড় বড় কর্পোরেশন বা কোম্পানি তাদের লাভের একটি অংশ নানাধরনের জনহিতকর এবং দাতব্য কাজে খরচ করে থাকে। অনেক দেশে এটি আইনত বাধ্যতামূলক আবার অনেক দেশে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। আমাদের দেশে বিভিন্ন ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন ধরনের জনহিতকর কাজে নিয়মিত তাদের আয়ের একটি অংশ ব্যয় করতে দেখা যায়। অন্যান্য বড় বড় কর্পোরেশন বা কোম্পানির এইরকম কর্মকান্ডের খবর তেমন পাওয়া যায় না। আর থাকলে ও তা উল্লেখযোগ্যভাবে নয়। আর আরেকটি হচ্ছে ব্যক্তিগত দান যা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। আমাদের দেশের বহু স্কুল কলেজ, দাতব্য চিকিৎসালয়, হাসপাতাল ব্যক্তিগত দানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের এইরকম অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জানি যা পুরোটাই ব্যাক্তিগত দানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।
আগেরকার ধনী মানুষের এই সব কাজে আগ্রহ ছিল। তারা দেশ, জাতি এবং সমাজ নিয়ে ভাবতেন। এখন এইসব দানের কথা তেমন শোনা যায় না। এখনকার ধনীদের অনেকেই ভোগ বিলাসে মত্ত। আমাদের এই সিলেটে ও অনেক অতি ধনী মানুষ আছেন, কিন্তু সবাইকে দানশীলতার কাজে তেমন আগ্রহী মনে হয় না। যেমনÑউত্তরাধিকারী সূত্রে অতি ধনী অনেকে আছেন যাদের জনহিতকর কাজের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ নেই। আবার নিজের চেষ্টায় শুন্য থেকে অতি ধনী হয়ে যাওয়া অনেকেই আছেন যারা বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ, ভোগ বিলাস আর বিয়ে শাদি এইসব অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ টাকা পয়সা খরচ করছেন, শুধু মাত্র লোক দেখানোর খাতিরে। কিন্তু দানশীল কাজের তেমন কোনো নজির তাদের নাই। অবশ্য ব্যতিক্রম ও আছেন কেউ কেউ। নিজ প্রচেষ্টায় প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েও ভোগ বিলাসে মত্ত না থেকে জনহিতকর কাজে নিয়োজিত করেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ এবং মাদ্রাসা এই রকম ধনীও আছেন। সিলেটের বেলায় এ প্রসঙ্গে দানবীর ড. রাগীব আলীর নাম উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এই শেষোক্ত শ্রেণির সংখ্যা হাতেগোনা। মুহূর্তের মধ্যেই নাম বলে ফেলা যায়। এখন দানশীল কাজে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্র অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষা বা চিকিৎসা ছাড়া ও আরো বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমনÑদারিদ্র্য দূরীকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা সহ আরো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দানশীলতার প্রতি আগ্রহ যেনো দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।
শেক্সপিয়রের একটি লেখাতে পড়েছিলাম, করুণার প্রকৃতি আকাশ থেকে নেমে আসা বৃষ্টির মতোই। তার স্পর্শে দাতা আর গ্রহীতা দু’জনেই ধন্য হন। আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ধন জিনিসটাকে আমাদের দেশ সচেতনভাবে অনুভব করিতেই পারিল না, এইজন্য আমাদের দেশের কৃপণতাও কুশ্রী, বিলাসও বীভৎস’। ইংরেজি একটি উক্তি আছে যার বাংলা হচ্ছে, যখন বিধাতা কাউকে ধনের ধনীতে ধনী করেন, সে যেন তখন তার জীবনযাত্রার মান উন্নত না করে বরং তার দানশীলতার মাত্রাকে উন্নত করে। জনকল্যাণমূলক কাজে তাই দানের গুরুত্ব অসীম। প্রায় সব ধর্মে ও দানের প্রশংসা করা হয়েছে। আমরা কি তাই আশা করতে পারি না যে আমাদের দেশের ধনীরা কেবলমাত্র ধনের ধনী হবেন না, মনের ধনীও হবেন একই সাথে।
লেখক : কলামিস্ট।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/আরক/প/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -