রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত বিয়ানীবাজারের কামাল  » «   চীনের ল্যাবেই তৈরি হয়েছিল করোনা  » «   ‘চাল যায়, চাল আসে-তাই নিয়ে সবাই হাসে’  » «   করোনায় শ্রীমঙ্গলে সরব প্রশাসন  » «   সিঙ্গাপুরে ২৬ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   যে কারণে করোনা রোগীর লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না  » «   করোনা পরীক্ষার মেশিন আসতেই চিকিৎসকের স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন  » «   মহামারির কারণে যে শহরে রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে আছে  » «   বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভিন্ন আচরণ!  » «   এ কেমন অমানবিকতা!  » «   গোয়াইনঘাটের ত্রাণের খবরে ছুটছে মানুষ  » «   লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট চালুর তাগিদ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য : পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   কুলাউড়ায় ১২‌টি দোকা‌নের ভাড়া মওকুফ  » «   সিলেটে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মে কঠোর শাস্তি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ব্রিটেনে আরও ৭০৮ জনের মৃত্যুতে সিলেটে আহাজারী বাড়ছে  » «  

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ সেনা অফিসার গোলাপগঞ্জের লে. কর্ণেল এম. আর চৌধুরী

মাহফুজ আহমদ চৌধুরী :মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ সেনা অফিসার গোলাপগঞ্জের শহীদ লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী (মুজিবুর রহমান চৌধুরী) গোলাপগঞ্জ পৌরসভার রণকেলী গ্রামে ১লা এপ্রিল ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম তুতিউর রহমান চৌধুরী। এম আর চৌধুরী ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে মাধ্যমিক এবং ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে আইএসসি পাস করে তৎকালীন রয়েল ইন্ডিয়ান আর্মির নন-কমিশন অফিসার হিসেবে কলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে যোগদান করেন। দেশ বিভাগের পর পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই জুন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে এমর আর চৌধুরী ঢাকাস্থ ১৪তম ডিভিশনের সদর দপ্তরে বদলি হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের ময়দানে অবস্থিত ১ নম্বর পাঞ্জাব রেজিমেন্টাল সেন্টারে এবং ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে তাঁকে বদলি করা হয়। এর পর কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থানরত চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহ লাহোর সেনাবাহিনীবাসে বদলি করা হয়। লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী তধানীন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পদস্থ ক’জন বাঙ্গালী অফিসারের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে জুন মাসে চট্টগ্রামে সেনানিবাসে এম আর চৌধুরী বদলি হন। সেখানে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারের (ইবিআরসি) চিফ ইন্সট্রাক্টর (সিআই) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৮ মার্চ চট্টগ্রাম নিয়াজ স্টেডিয়ামের সেক্রেটারীর কক্ষে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) ক্যাপ্টেন আমিন আহমদ চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন অলি আহমদের সাথে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিঘাত করার জন্য এক রূপরেখা তৈরি করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৫ মার্চ রাতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অবনতী হলে লে. কর্ণেল এম আর চৌধুরী ইবিআরসির কোয়াটার মাস্টার ক্যাপ্টেন এনামুল হক চৌধুরীকে ইবিআরসির উপস্থিত বাঙ্গালীর সৈনিকদের মাঝে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র বিতরণ করত: পাক সেনাদের বিরোদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলার নির্দেশ প্রদান করেন। এসময় ২০ বালুচ রেজিমেন্ট ইবিআরসি ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা করে অসংখ্য বাঙ্গালী সেনা সদস্যদের নৃশংস ভাবে হত্যা করে। পাক সেনাদের হামলায় কর্ণেল চৌধুরীও শাহাদাৎ বরণ করেন। লে. কর্ণেল চৌধুরীর সৈনিকদের মাঝে অস্ত্র বিতরণের সময়োচিত পদক্ষেপ বহু বাঙ্গালী সেনার প্রাণ রক্ষা করে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্য ও স্বাধীনতা প্রিয় বাঙ্গালী মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রথম বাঙ্গালী শহীদ সেনা অফিসার লে. কর্ণেল এম আর চৌধুরীর আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এ বীর সেনানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম সেনানিবাস্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম করণ করা হয়েছে এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ড, গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের একটি সড়কের নাম করণ করা হয়েছে শহীদ লে. কর্ণেল এম. আর. চৌধুরী সড়ক এবং সিলেট সেনানিবাসের পাশে গড়ে উঠেছে শহীদ লে. কর্ণেল এম. আর. চৌধুরী হাউজিং কমপ্লেক্স।

লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক, গোলাপগঞ্জ।

 (আমার বাংলাদেশ/কাআহমেদ// )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -