শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, সৎকার করলো প্রশাসন  » «   সিলেটে ছুরিকাঘাতে শ্রমিক নেতা খুন  » «   কোয়ারেন্টিনে নারী পুলিশ সদস্যের বিষপানে মৃত্যু  » «   মাছ ব্যবসায়ী যখন ডাক্তার’  » «   সিলেটে করোনা সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে  » «   শিক্ষকের ধর্ষণে ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্তা  » «   পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ নারী নিখোঁজ  » «   একটি ঘুষি দেই দম বন্ধ হয়ে যায় ”তারপর ঘাড় মটকে হত্যা করি  » «   শনিবার বেলা ১১টায় বনানী মসজিদে সাহারা খাতুনের জানাজা  » «   দেশে নতুন ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি  » «   সাহেদ যে কাজ করেছে শাস্তি তাকে পেতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   করোনা জয় করে মানুষের সেবায় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনজুর-এ-মর্শেদ  » «   সাংবাদিক কী সন্ত্রাসী”ভাড়াটিয়া গুন্ডা ”ইকরামুল কবির  » «   নাট্যনির্মাতা স্বপন সিদ্দিকী করোনায় মারা গেলেন  » «   বনানী কবরস্থানে মা বাবার পাশে দাফন করা হবে সাহারা খাতুন’কে  » «  

নতুন কিছু পরিভাষা ও আমাদের বাস্তবতা

শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ :  الحمد لأهله والصلاة علي أهلها اما بعد؛

ইদানিং সমাজে কিছু নতুন নতুন শব্দ বা বাক্যের প্রচলন শুরু হয়েছে যার বাস্তবতা অনেক কে দূরে ঠেলে দিচ্ছে আবার অনেকের মধ্যে সম্পর্কের চ্ছিন্ন ঘটাচ্ছে ৷এবং অনেকেই না বুঝে তার অপব্যবহার করছে ৷ এদের একটি হলো “সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন” কথাটি একবিংশ শতাব্দির নতুন সংস্করণ,যা সাধারণতঃ একে অপরের পাশাপাশি না থাকা বা একসাথে না চলা অর্থে ব্যবহার করা হয় ৷ অতঃপর কেউ কেউ নির্দিষ্ট দূরত্বে অর্থাৎ পরস্পরে ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরে সহোবস্থান করা বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ৷ তেমনি ভাবে ইংরেজী শব্দ “Lockdown” যার বাংলা অর্থ— তালাবদ্ধ, অবরোদ্ধ অর্থাৎ:- জরুরী অবস্থায় নেওয়া একটি সুরক্ষা ব্যবস্হা অথবা কোন স্থানে বা ভবনে প্রবেশ করতে বা বের হতে বাধা দেওয়া অথবা কাউকে কোন নির্দিষ্ট স্থানে আটকিয়ে রাখা বা ঢুকতে না দেওয়া ইত্যাদি ৷ অন্য একটি শব্দ “Home Quarantine” এতে Quarantine অর্থ নিরোধন অর্থাৎ: সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঘরে অবস্থান করা, নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা,অন্যভাবে বললে রোগ সংক্রমণের ভয়ে মেশামেশি নিষিদ্ধ করা,সঙ্গরোধ করা,স্বাভাবিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা ইত্যাদি,বাংলা একাডেমীর অভিধান অনুযায়ী Quar-an-tine (কোয়ারানটীন) বলতে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে মানুষ অথবা কোন প্রাণীকে সঙ্গ না দিয়ে আলাদা বা কোথাও আটকে রাখার ব্যবস্থা /এই ব্যবস্থার সময়কাল; কে বুঝায় ৷ এগুলি প্রায়ই সমার্থক শব্দ কিন্ত ক্ষেত্রবিশেষ ব্যবহার ভিন্ন ৷ সবকটিই পরস্পরকে রক্ষা বা নিজেকে সুরক্ষার অর্থে ব্যবহৃত হয় ৷ বিগত শতাব্দিগুলোতে এসবের তেমন একটা প্রচলন হয়েছে বলে আমার জানা নেই ৷ তবে বিশ্বব্যাপী “করোনা” নামের এমন এক আত্মঘাতী ভাইরাস দ্রুতগতিতে বিস্তৃত হচ্ছে, যার জন্য এখনো পর্যন্ত কেউ তৈরী করতে পারেনি কোন Antibiotic না কোন Vaccine৷ আবিষ্কার করতে হচ্ছ নতুন কিছু, অনেক চেষ্টা বা শ্রম ব্যয় করে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা,হন্য হয়ে খুজছেন আত্মরক্ষার পথ ৷ এ ক্ষেত্রে আশাতীত সফলতা না আসলেও আপাততঃ নতুন করে প্রচলন শুরু হয়েছে বর্ণিত শব্দগুলির ৷ নতুন করে প্রচলন বললাম এজন্য ,কারণ ১৪০০ বছর পূর্বে নবীয়ে আরাবী সা, এগুলোর ব্যবহার করেছিলেন ঠিকই,পরবর্তীতে কিছু কাল রাজা-বাদশাহদের অবরুদ্ধ কেল্লা বা দুর্গ ও জাহাজের আক্রান্ত যাত্রীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও আজ অবধি তা কেবল Dictionary বা অভিধানেই লিপিবদ্ধ রয়েছে , এর ব্যবহার আমাদের সমাজে ছিলো না বললে ভুল হবেনা ৷বিশেষজ্ঞদের ধারনা প্রচলিত হওয়া এ শব্দগুলির যথার্থ বাস্তবায়ন হলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যাবে ৷ প্রশ্ন উঠে আমাদের নিম্ন আয়ের দেশে এর যথাযত প্রচলন কী সম্ভব ?

উত্তর পু্র্বে রোগ সম্পর্কে সাম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন বলে মনেকরি ৷ বিশ্বের সকল চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে একমত যে “করোনা” ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগটি একটি সংক্রমিত রোগ অর্থাৎ ছোয়াচে রোগ,আর ভাইরাসটি সংক্রামক, এর দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে যে কেউ থাকলে বা স্পর্শ করলে সেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় অথবা করোনাবাহী কোন বস্তুতে স্পর্শ করলে তা শরীরের মধ্যে ত বিস্তার লাভ করে৷

সহজ ভাবে বললে ইহা ইলেকট্রিক শকের মতো৷ বুঝার জন্য বলছি যেমন,কেউ উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে ছটফট খাচ্ছে, রক্ষা করার জন্য অন্যজন তাকে ঝাপটে ধরলো তাদেরকে বাঁচানোর জন্য আরো কয়েকজন ধরাধরি করলো,এদের একজন নিজেকে সুরক্ষিত রেখে অপরের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিল৷

কিছুক্ষন পর দেখা গেলো তাদের দুইজন মারা গেছেন এবং বাকীরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতলে৷ আর সুরক্ষিত ব্যক্তি সুস্থই রহিলেন৷
কী বুঝলেন? এখানে ইলেকট্রিক শক একজন থেকে অন্যজনের গায়ে যেভাবে দ্রুত সঞ্চালন হয়েছে বা ছড়িয়েছে ঠিক তেমনি ” করোনা ” ভাইরাসের সংক্রমন ৷ আবার শারীরিক বিবেচনায় তা থেকে কেউ কেউ বেচে গিয়েছে আবার অনেকই মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েছে৷ “করোনা” দ্বারা সংক্রমিত ব্যক্তির অবস্থাও তাই ৷ উপযুক্ত চিকিৎসা ও শারিরীক ক্ষমতার ভিত্তিতে সুস্থ হতে পারেন আবার নাও হতে পারেন ৷এক্ষেত্রে সতর্কতা ও সচেতনা অবলম্বন হলো আত্মরক্ষা বা সুরক্ষার মূল৷ এর পরেও থেকে যায় মৃত্যুর ভয় ৷ এবার সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসার পালা ৷ বান্দা তার কাজে- কর্মে চেষ্ঠার শেষ প্রান্তে পৌছতে সৃষ্টিকর্তার হাওলা হওয়া বা আশ্রয় চাওয়া ৷ এরই নাম তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ বা আল্লাহ উপর ভরসা৷ এই ছোয়াচে বা সংক্রামন থেকে নিজেকে Protect করার First Aid হচ্ছে তাই যা নতুন ভাবে প্রচলিত হয়েছে ৷ মানুষকে ভয় না দেখিয়ে বিষয় গুলি বুঝানো৷ বাড়াবাড়ি বা অতিমাত্রায় ক্ষমতা প্রয়োগ না করে যে পন্থায় সচেতনতা সৃষ্টি হয় তা অবলম্বন করা৷ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বা উপসর্গ পরিলক্ষিত ব্যক্তি বা বস্তুর সান্নিধ্য না নেয়া বা দূরে থাকা,তা যেভাবেই হোক এ পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত থাকা আমাদের প্রয়োজন৷ এতে অযথা হয়রানী বা বাধা-বিঘ্নতা সৃষ্টি না করাই ভালো৷ অন্যথায়,কে জানে এর প্রভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায়ের নামে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ঘটে না যায় ৷ Lockdown এর নামে knockdown প্রাদুর্ভাব বেড়ে না যায়, Home Quarantine এর নামে Home Quareel time হয়ে না যায় ৷ তবে হা! প্রয়োগ-ব্যবস্থাপনায় বহিঃবিশ্বের উপমা দেয়া যায়৷ ভৌগলিক অবস্থান,কাল-পাত্র, উন্নত-অনুন্নত, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম,প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা ইত্যাদি সব মিলিয়ে তাদের অনুসরণ করা দোষের নয় কিন্তু সংখ্যাধিক্য জনতার দেশে তা বাস্তবায়ন দুষ্কর৷ এক্ষেত্রে বাঙ্গালী যে সহজ ভাষায় তাদের করনি বুঝবে তা বলেই সচেতন করতে হবে ৷ জনসাধারণকে তারমতো করে চলতে দিতে হবে ৷ তাছাড়া আমাদের দেশের শতভাগ লোক শিক্ষিতও নয় যে, পুর্ব থেকেই বর্ণিত শব্দগুলির সাথে পরিচিত ৷ সুতরাং এগুলোকে আমলে আনতে সময়ের ব্যাপার৷

পরিশেষে, ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের এ ক্রান্তিকালে আসুন আমরা সবাই আমাদের ঈমানকে তথা আল্লাহর উপর বিশ্বাসকে আরো মজবুত করি, ‘করোনা’র কারণে আমাদের ঈমান যাতে দুর্বল না হয়৷ ভালো বা উত্তম কাজ বিশেষ করে ইবাদাত – বন্দেগী গুলি বেশি বেশি করে করি৷

যাতে করে আমাদের পাপের পাল্লা আর যেন ভারি না হয় ৷ একে অপরকে সৎ উপদেশ দেই, ভালো কাজে উৎসাহিত করি ৷ আল্লাহর আজাব ও গজবের ব্যাপারে নিজে সতর্কতা অবলম্বন করতঃ অপরকে সতর্ক হওয়ার উৎসাহ প্রদান করি, নিজে সচেতন হই এবং অপরকে সচেতন করি৷ বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করি এবং অপরকেও ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ দেই ৷ আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য বুঝার ও তার উপর আমল করার তাওফীক দান করুন ৷ আমীন!
শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ
শিক্ষক
ঢাকাদক্ষিণ মাদরাসা, গোলাপগঞ্জ, সিলেট৷

 (আমার বাংলাদেশ/ আজিজ  খান // )

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -