শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, সৎকার করলো প্রশাসন  » «   সিলেটে ছুরিকাঘাতে শ্রমিক নেতা খুন  » «   কোয়ারেন্টিনে নারী পুলিশ সদস্যের বিষপানে মৃত্যু  » «   মাছ ব্যবসায়ী যখন ডাক্তার’  » «   সিলেটে করোনা সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে  » «   শিক্ষকের ধর্ষণে ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্তা  » «   পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ নারী নিখোঁজ  » «   একটি ঘুষি দেই দম বন্ধ হয়ে যায় ”তারপর ঘাড় মটকে হত্যা করি  » «   শনিবার বেলা ১১টায় বনানী মসজিদে সাহারা খাতুনের জানাজা  » «   দেশে নতুন ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি  » «   সাহেদ যে কাজ করেছে শাস্তি তাকে পেতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   করোনা জয় করে মানুষের সেবায় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনজুর-এ-মর্শেদ  » «   সাংবাদিক কী সন্ত্রাসী”ভাড়াটিয়া গুন্ডা ”ইকরামুল কবির  » «   নাট্যনির্মাতা স্বপন সিদ্দিকী করোনায় মারা গেলেন  » «   বনানী কবরস্থানে মা বাবার পাশে দাফন করা হবে সাহারা খাতুন’কে  » «  

“করোনা” না মৃত্যু, কার ভয়ে তুমি পালাচ্ছো?

শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ :গত কয়েক দিন আগে Online News ও Face book এর বিভিন্ন পোষ্ট পড়তে গিয়ে দেখলাম- “সিলেট সদর থানার খাদিমনগর ইউনিয়নে একজন লোকের শরীরে ‘করোনা’ ভাইরাস শনাক্ত হওয়া পর লোকটি Home Quarantine এ না থেকে কিংবা Hospitalized না হয়ে ভয়ে পালিয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন অনেক চেষ্টার বিনিময়ে তাকে আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয়েছে”। হায় আফসোস! বিবেক সম্পন্ন মানুষের এ কী হলো? অজান্তে প্রশ্ন জাগে, মানুষ! তুমি এত নির্বোধ কেন? তুমি তোমার স্রষ্টাকে ভয় না করে তাঁর সৃষ্টিকে কেন ভয় করছ? যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াচ্ছো, তুমি কি ভেবে দেখেছ এওতো আঠারো হাজার মাখলুকাতের বাইরে নয়। আর তুমি হচ্ছো মানুষ, “আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ”। তোমার কারণেই তো অপরাপরের সৃষ্টি। তুমি কেন ভয় করছো? কাকে ভয় করছো? তা থেকেই আজকের এ লিখা…………
আমাদের দেশে এ ধরণের আরো কিছু ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে ঘটেছে যা খবরে প্রকাশ। প্রথমেই বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে সাম্যক আলোচনা, বর্তমান বিশ্ব এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে কাল-যাপন করছে যেখানে দেখতে পাই শুধু আতংক, ভীতি, সন্ত্রস্ততা, আত্মগোপনের লুকোচুরি, চুপিচুপি বিসর্জন ইত্যাদি। একে অপরকে Take Care বা দেখা-শুনাতো দূরে থাক, সান্নিধ্য নেয়াই দোষের কাজ মনে করছে। কেউ তার রোগের কথা অপরকে বলতে ভয় পায় এ ভেবে যে, না জানি আমার দ্বারা পরিবার, সমাজের বড় কোন ক্ষতি হয়ে বসে। বিরাজমান এ অবস্থা থেকে আমাদের দেশ কোন অংশে পিছিয়ে নয় বরং বহুলাংশে এগিয়ে বললে ভুল হবে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো- রোগ পরিলক্ষিত হওয়ায় পরও মানুষ আজ ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না কিংবা হাসপাতাল মুখি হয় না, Doctor Chamber, Diagnostic centre, Private Clinic সবই এখন ফাকা সর্বত্র রোগ ও রোগির অভাব অথচ কিছুদিন পুর্বে এসব Service place গুলোতে জনসমাগম এমন হতো, যাতে একজনের ধাক্কায় অন্যজন নুয়ে পড়তো৷ অনেক সুবিধাভোগীর জন্য বকশিশেরও প্রচলন ছিলো তখন। কিন্তু আজ এসব আর কিছুই নেই। কারণ করোনা মহামারী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বদ্ধমূল থাকা ভয়-ভীতির বহিঃপ্রকাশ জনমনে আতংকের সৃষ্টি করেছে, মানুষ আত্মরক্ষায় দিশাহারা হয়ে উপায়ান্তর না পেয়ে পালাবার পথ খোজছে। এসবের মূলে হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের কিছু Global News Media ও Social media এবং Medical System loss এর Local Broadcasting. অনেক হলুদ মিডিয়া জনসাধারণকে সতর্ক করার নামে এমন ভাব-ভঙ্গিতে খবর সম্প্রচার/প্রকাশ করেছে যে, একজন সুস্থ মানুষও বিচলিত না হয়ে পারে না, আর দুর্বল প্রকৃতির মানুষতো এ থেকে আরো অধিক মাত্রায় ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। আবার দেশে হোক অথবা অন্য কোথাও হোক নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও অপপ্রচার, যেমন- এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এটি করতে হয়, সেটি করতে হয়, একাকীত্ব দিন-যাপন করতে হয়, নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়, Quarantine/Isolation থাকতে হয় ইত্যাদি বিষয় Leake out হওয়া। এগুলি মূলত চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোচনা ও একজন চিকিৎসকের একান্ত Daignosis উপাত্ত। এছাড়াও কিছু খবর গুজবে রূপ নিয়েছে যেমন- আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিবার পরিজনের কাছ থেকে সরিয়ে অন্য এমন কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় যা কেউ জানেনা, আর যদি সে মুসলমান হয় এবং মারা যায় তার জানাযা নিয়েও সংশয়। সংক্রমন প্রতিরোধে কোথাও মৃত ব্যক্তিকে আগুনে জালিয়ে দেয়া হয়েছে- এরকম অনেক আজগুবি খবর। যাই হোক এগুলি সবইতো খবর, আর ‘খবর’ কখনো সত্য হয় আবার মিথ্যাও হতে পারে।
মানুষ! এ খবর শুনে তোমার মনে এত ভয়ের সঞ্চালন। তুমি ভয় করছো স্রষ্টার সৃষ্টিকে, না দেখা এক ভাইরাসকে; যার সংক্রমন হয়তো তোমার ক্ষতি করতে পারে নতুবা তোমাকে ধংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে এইতো আর কী? সন্দেহের অবকাশ সম্বলিত সাময়িকী খবর শুনে আজ তোমার আমার সকলের যদি এহেন অবস্থার সৃষ্টি হয়, তবে সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে থেকে দিয়ে আসা মৃত্যু ও কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে বিভিন্ন সতর্কবার্তা, যা হলো চিরন্তন সত্য ঐশী বাণী, যাতে সন্দেহের কোন অবকাশই নেই, যে কথাগুলি তুমি ছোটবেলা থেকে বার বার শুনে এসেছো আলিম-উলামাদের কাছ থেকে এবং হয়তো নিজেও অনেকবার পড়েছ, এসব জেনে ও শুনে তোমার কী হওয়া উচিত ছিলো? তোমার শরীরে কী রকম ভয়ের সঞ্চালন হওয়া কথা? আজ তুমি পালাচ্ছো ‘করোনা’র ভয়ে, একবার ভেবে দেখেছ কি যখন তোমার মৃত্যুর সময় অবধারিত হবে তখন পালাবে কোথায়?
এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন- যখন তাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন না এক মুহুর্ত পেছনে থাকতে পারবে, না এগিয়ে যেতে পারবে (ঠিক নির্ধারিত সময়ে তুলে নেয়া হবে)। (সূরা ইউনুস : আয়াত ৪৯)
তিনি আরো বলেন- যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। (জুমুআ : ৬২/৮)
তুমি যেখানেই যাবে মৃত্যু তোমাকে আলিঙ্গন করবেই। সূরা নিসা’য় আল্লাহ তায়ালা বলেন- সুতরাং সুদৃঢ় দূর্গে অবস্থান করলেও মৃত্যু কাউকে ছাড় দিবে না।
এ জগতে না হয় পালিয়ে গিয়ে কোন বন্ধুর আশ্রয় নিবে নতুবা তাকে দিয়ে সুপারিশ করাবে কিন্তু সে দিনের কথা ভেবে দেখছ কি? যে দিন কোন আশ্রয় খোজে পাওয়া যাবেনা তখন করবে কি?
আল্লাহ তায়ালা বলেন- “আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।” (সুরা মুমিন ৪০:১৮)
আর মৃত্যু হলো পালনকর্তার একটি হুকুম তা নির্ধারিত সময়ে আসে। সূরা আল ইমরানে ইরশাদ হয়েছে- “আর কারো মৃত্যু আসতে পারে না আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। (মৃত্যুর জন্য) নির্ধারিত সময় লেখা হয়ে গেছে।” (আল ইমরান : ১৪৫)
এ ছাড়াও কোরআন-হাদীসে থাকা ভুরি ভুরি সতর্কবাণী যা তুমি অনেক বার পড়েছো বা শুনেছো। সুতরাং এরপরেও ‘করোনা’র ভয়ে পালাবে? নিঃসন্দেহ ইহা আল্লাহ প্রদত্ত একটি গজব। মানুষকে পরীক্ষার জন্য এ নশ্বর পৃথিবীতে যার সৃষ্টি। ধৈর্যের সাথে এ পরীক্ষায় উত্তির্ণ হতে হবে।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সতর্কতার সাথে Overcome করতে হবে। তুমি ভুলে গেলে হবে না সে দিনের কথা, যে দিন তোমার সকল ‘কর্ম’ নিয়ে হাজির হতে হবে মহান রবের সামনে, যেথায় সকল পাপ ও পুণ্যের পুংখানুপুঙ্খ হিসাব প্রকাশ করা হবে, এতে যদি ‘করোনা’ ছাড়া মৃত্যুর ভয়,পুণ্য নিয়ে তোমাকে মাওলা পর্যন্ত পৌছে দিতে পারে তা হলেইতো তুমি সৌভাগ্যবান; আর যদি মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ভাইরাসের ভয়,পাপ নিয়ে হাজির হতে হয় তবে তোমার কপালে দুঃখ বইকে কিছু নেই। তখনতো কিছুই করার থাকবে না, না পালাবার সুযোগ পাবে না ফিরে আসার। লক্ষ্য করার বিষয় যে, যাদের অন্তরে এ শিক্ষা বদ্ধমূল হয়ে যাবে, তাদের ভীরুতার অবকাশ কোথায় থাকতে পারে এবং শৌর্য ও সাহসিকতার পথেইবা তাদের জন্য কি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে?
পরিশেষে বলি-
“আর নয় ‘করোনা’কে ভয়, করো মৃত্যুকে ভয়৷
সচেতনতাই হবে সুরক্ষা, শুভ পরিণাম নিশ্চয়।”
আমাদের প্রত্যেক মানুষের মাঝে মৃত্যুর ভয় থাকা জরুরী। কারণ মৃত্যুর ভয় মানুষকে সকল অন্যায় থেকে বাঁচাতে পারে। পুণ্যের পাল্লা ভারি করে তোলে। আল্লাহ সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন !!

লিখক:
শিক্ষক, ঢাকাদক্ষিণ মাদরাসা, গোলাপগঞ্জ, সিলেট

 (আমার বাংলাদেশ/কাআহমেদ// )

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -