মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
জাপানে ৪ দেশের নাগরিক প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ  » «   আমরা বরিশালের পোলা পঁচাশি টাকা তোলা  » «   অক্টোবর মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল  » «   লাতিন আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধকোটি  » «   আফগান কারাগারে বন্দুকধারীদের হামলা নিহত বেড়ে ৩৯  » «   নর্থ কারোলিনায় আঘাত হেনেছে হারিকেন ‘ইসাইয়াস  » «   সিনহা হত্যা পুলিশের প্রতি অনাস্থা আরও বাড়িয়েছে  » «   করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ  » «   আইপিএলে পরিষ্কার করে দিলো অস্ট্রেলিয়া ও উইন্ডিজ  » «   হাতিরঝিলে গাছে ঝুলছিল মরদেহ  » «   ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে রাজবাড়ীতে ২ জনের মৃত্যু  » «   সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত  » «   প্রীতি ফুটবল ম্যাচে বাংলাদেশের জয়  » «   সুপ্রিম কোর্ট খোলা নিয়ে ফুলকোর্ট সভা বৃহস্পতিবার  » «   পেঁয়াজ খেয়ে শত শত মানুষ অসুস্থ  » «  

চিকিৎসকের অভাবে গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ পশু হাসপাতাল বন্ধ

Sharing is caring!

জাহিদ উদ্দিন  : গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাকালুকি হাওর পারে অবস্থিত শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন। হাওরের পারে এ ইউনিয়নের অবস্থান হওয়ায় এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর। এজন্য উপজেলার এ ইউনিয়নটিতে সর্বাধিক গবাদি পশু পালন হয়ে থাকে। ফলে এলাকাবাসীর গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য নির্মিত হয়েছিল শরীফগঞ্জ পশু হাসপাতাল। তবে চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ভাবে পড়ে থাকায় হাসপাতালের ঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে

জানা যায়, ১৯৯২ সালে স্থাপিত শরীফগঞ্জ পশু হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন কোনমতে চললেও গত ৫বছর পূর্বে হাসপাতালে থাকা ডাক্তার অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর এ প্রতিষ্ঠানটিতে আর কোন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকতে থাকতে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করার পরও কোন সুরাহা মিলছে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির চারিদিক আবর্জনা আগাছায় ভরপুর। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় হাসপাতাল ভবনের দরজা জানালা ও ভবনের টিন জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালে থাকা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে গেছে। হাসপাতালটি দেখে বুঝার উপায় নেই এখানে একটি পশু হাসপাতাল ছিল।

মন্নান মিয়া নামের এক স্থানীয় কৃষক জানান, পশু হাসপাতাল থাকার পরও কুশিয়ারা পারের কৃষকরা ডাক্তারের অভাবে সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত। কোন গবাদি পশু অসুস্থ হলে চিকিৎসা সেবা নিতে আমাদের নদী পাড়ি দিয়ে অনেক কষ্ট করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল নিয়ে যেতে হয়। এ অঞ্চলে কোন ডাক্তারকেও নিয়ে আসা সম্ভব হয়না।

কালাম মিয়া আহমদ নামের আরেক কৃষক জানান, কুশিয়ারা অঞ্চলে পশু হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর স্থানীয় কৃষকরা পশু পালনে আগ্রহী হচ্ছিলেন। হাসপাতালটি বন্ধ হওয়ার পর অনেকে পশু পালন বন্ধ করে দিয়েছেন।

জাবেদ আহমদ রিপন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অনেক সময় গরু ছাগলের বিভিন্ন অসুখ দেখা দেয়। কৃষকরা তাদের শেষ সম্বল গরু ছাগল ভালো চিকিৎসার অভাবে হারাতে হয়। অনেক পশু পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিবর্তে নিঃস্ব হয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালেও অনেক লোকবল সংকট রয়েছে। এর জন্য দীর্ঘদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী মাসে একজন ডাক্তার নিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় বসার কোন পরিবেশ নেই। হাসপাতালটি মেরামত করার পর চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/বৃ/১/এ/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

Sharing is caring!

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -