রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
জেলখানায় প্রেম সমকামিতা  » «   বাংলাদেশ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ সিনেটর  » «   সিলেটে যে লড়াইয়ে কামরান-মিসবাহ  » «   গোলাপগঞ্জের ফাজিলপুরে সড়কবাতির উদ্বোধন  » «   সিলেটে গতিরোধক বাঁধ নাগরিক বিড়ম্বনার নাম  » «   হবিগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাস্তার বেহাল দশা  » «   গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন  » «   আলখাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «   পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নানকে জেলা উশু এসোসিয়েশনের ফুলেল শুভেচ্ছা  » «   জগন্নাথপুরে শেখ রাসেলের জন্ম বার্ষিকী পালন  » «   জগন্নাথপুরে এক দিনে ২ হত্যাকা- নিয়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক  » «   প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান: একটি বিপ্লবী কন্ঠের চির বিদায়  » «   আজমিরীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো কাউন্সিলর আফতাব ফুটবল টুর্নামেন্ট  » «   অছাত্র মিঠুর দৌরাত্ম্য সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বেহাল অবস্থা  » «  

মহানগর আ.লীগের সম্মেলন: পরিবর্তন না পরিবর্ধন

আহমেদ শামীম : সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন-তারিখ নির্ধারণের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনেরও ডাক পড়েছে। আজ মহানগর আ.লীগের জরুরী সভায় সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে জানা যায়।

এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ ফুরফুরে রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের আশায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

দীর্ঘ ৮ বছর থেকে এক কমিটি দিয়ে পার করছে মহানগর আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র থেকে কয়েকবার সম্মেলনের নির্দেশ দিলেও নানা কারণে সম্মেলন দেওয়া সম্ভব হয়নি। র্দীঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি কমিটিও পূর্ণাঙ্গভাবে দিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নানাভাবে সফলতা ও ব্যর্থতার মধ্যে পার করেছে কামরান-আসাদ কমিটি।

গত ২ অক্টোবর বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, দলের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান। বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় সম্মেলনের পূর্বে মহানগরের সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়ে যান। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে মহানগরের সম্মেলন শেষ করতে হবে। তার আগে করতে হবে নগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা চলতি মাসেই ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন শেষ করবো। আগামীকালই কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে কেন্দ্রের সঙ্গে আলাপ করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করবো।’

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলকে ঘিরে তৎপরতা শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। পদ প্রত্যাশীরা জোর লবিং শুরু করেছেন কেন্দ্রে। তবে- এই সম্মেলনককে ঘিরে বলয়ভিত্তিক রাজনীতি গড়ে উঠারও আশঙ্কা রয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতি পদে রয়েছেন- বর্তমান সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বদর উদ্দীন আহমদ কামরান, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আনোয়ার আলাউর ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দীন আহমেদ।

সভাপতি পদে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করে আসছেন। এদিক দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সাথে তাঁর ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাছাড়া তিনি বিগত সময়ে জনপ্রিয় নগর পিতা ছিলেন। পরবর্তী ২ বার মেয়র নির্বাচনে দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে পরাজিত হন। কামরান দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই আস্থাভাজন। যার কারনে সিলেটে রাজনীতি করেও কেন্দ্রীয় সদস্য পদ লাভ করেন তিনি।

অপরদিকে ফয়জুল আনোয়ার আলাউরও দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির মাঠে কাজ করছেন। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তিনিও একজন হ্যাভিওয়েট প্রার্থী। দীর্ঘদিন থেকে তৃণমূল কর্মীদের সাথে কাজ করায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

সভাপতি পদে আরেক হ্যাভিওয়েট প্রার্থী হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি সিলেটে রাজনীতিতে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবেই পরিচিত। চেম্বারের নির্বাচন একমাত্র আসাদ উদ্দিনকে দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ও সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তৃণমূল কর্মীদের সাথে তার ভাল সম্পর্কও রয়েছে। তৃণমূলের জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে- বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, অধ্যাপক জাকিরুল ইসলাম ও কাউন্সিলন আজাদুর রহমান।

এদের মধ্যে শফিউল আলম নাদেল সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে খুবই পরিচিত মুখ। বিসিবির পরিচালক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূলের কাছে তিনি বেশ সমাদৃত। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি থাকার সময় সকল মহলে নিজের একটি আলাদা অবস্থান গড়ে তুলেন।

অধ্যপক জাকিরুল ইসলাম জাকিরও দলের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। এ সুবাদে তৃণমূল কর্মীদের সাথে ভাল সম্পর্ক রয়েছে।ক্লিন ইমেইজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিত।সর্বমহলে রয়েছে তার আলাদা গ্রহনযোগ্যতা।

তবে- কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ যুবলীগের রাজনীতি করে উঠে আসায় হ্যাভিওয়েটের পাল্লায় তিনিও আছেন। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। তাছাড়া ২০নং ওয়ার্ডের একাধিকবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কমিটি গঠন করা হবে। অবশ্যই বিগত সময়ে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন সেভাবেই কমিটি হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত নিবেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে আমি তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবো।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, আমরা আশা করি কমিটিতে নবীনদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। বলয়ভিত্তক রাজনীতির বাইরে প্রত্যাশীত একটি নতুন কমিটি আসবে।’

উল্লেখ্য: সর্বশেষ ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন তিন বছর মেয়াদি ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু র্দীঘ আট বছর পার হলেও পরিবর্তন হয়নি নেতৃত্ব।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/বু/১/এ/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -