রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
খেয়েও কেন অপুষ্টিতে ভোগে বাংলাদেশিরা?  » «   বিস্মিত সালমান-ক্যাটরিনার ম্যানেজার!  » «   পুরস্কারের টাকায় মায়ের চিকিৎসা করাবেন স্বর্ণজয়ী অন্তরা  » «   এবার যাকে বিয়ে করছেন তাহসান  » «   প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির পাকা খেলোয়াড়, মেসির মতো গোল দেন: নাসিম  » «   সিলেটে ভারতীয় কসমেটিকসসহ যুবক আটক  » «   রাজনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ভেলাই, সম্পাদক মিলন  » «   মিথিলার বিয়ের রাতে যা লিখলেন তাহসান  » «   ঢাকায় আসছেন সালমান-ক্যাটরিনা  » «   এসএ গেমসে যে সব ইভেন্টে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ  » «   বাংলাদেশের সাথে বিয়ের মাধ্যমে নারীর সম্পর্কও হয়ে গেল: সৃজিত  » «   রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় কথিত প্রেমিক আ’ট’ক  » «   মিথিলার পর এবার অপু বিশ্বাসের বিয়ের ঘোষণা  » «   এবার মু’খোমু’খি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা  » «   কুড়াবাজার ইউনিয়ন ছাত্র জমিয়তের মাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত  » «  

প্রথম বিয়ে প্রথম বছরেই ভেঙে যায় সুনিধির

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :ভারতীয় বিনোদনে রিয়েলিটি শো তখন সবে হাঁটি হাঁটি পা। দূরদর্শনে ‘মেরি আওয়াজ শুনো’-র জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সেখানেই দেশের প্রথম রিয়েলিটি শো বিজয়ী বালিকার দেখা পাওয়া গেল।

বিচারকমণ্ডলী-সহ সারা দেশের দর্শকের মন জয় করল তার সুমধুর কণ্ঠ। অনেকের ধারণা ছিল, পরবর্তী জীবনে হারিয়ে যাবে হয়তো। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে বলিউডের প্রথম সারির গায়িকাদের একজন হয়ে উঠলেন তিনি। এরপর অনেক রিয়েলিটি শো বিজয়ী এসেছেন।

তাদের অনেকেই আজ বিস্মৃত। কিন্তু সুনিধি আজও অমলিন। দিল্লির এক রাজপুত পরিবারে সুনিধির জন্ম ১৯৮৩ সালের ১৪ আগস্ট। তাদের পরিবার আদতে উত্তরপ্রদেশের। নিধির বাবা দুষ্মন্তকুমার চৌহান ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব। মা গৃহবধূ। দুই জনেই উৎসাহ দিতেন মেয়েকে।

মাত্র চার বছর বয়সে জলসায় গান গাইতে শুরু করে নিধি। কোনও প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই শুধু শুনে শুনে অবিকল দ্রুত গান তুলে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল তার। সিডি আর ক্যাসেট শুনে গান তুলতেন। তারপর ক্রমাগত গেয়ে গেয়ে রপ্ত করতেন। এরপর মঞ্চে তার গান শুনে কে বলবে সে পারফরম্যান্সের পিছনে কোনও প্রশিক্ষণ নেই!

মেয়ের কেরিয়ারের জন্য দিল্লি থেকে মুম্বাই চলে আসে চৌহান পরিবার। নতুন শহরে শুরুর দিকে চলার পথ খুব মসৃণ ছিল না। অর্থ অভাবে পড়তে হয়েছিল পরিবারকে। সে সময়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন কিশোরী সুনিধি। কল্যাণজি আনন্দজির গ্রুপে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গাইতেন। ‘লিটল ওয়ান্ডার্স’ ট্রুপে তিনি ছিলেন শিশুশিল্পী।

এরপর জলসায় সুযোগ আসতে দেরি হয়নি। তবে সুনিধির বাবার ইচ্ছা ছিল, মেয়ে প্লেব্যাক করুক। মাত্র ১১ বছর বয়সে নিধি ‘মেরি আওয়াজ শুনো’-তে বিজয়িনী হন। তার আগে তিনি গান গেয়েছিলেন অভিনেত্রী তবসুমের শো ‘তবসুম হিট প্যারাড’-এ। তিনিই পরিচয় করিয়ে দেন কল্যাণজি আনন্দজির সঙ্গে।

কল্যাণজি তার নাম নিধি থেকে পাল্টে করে দেন সুনিধি। তার মনে হয়েছিল সু শব্দটি সৌভাগ্য বয়ে আনবে। এবং তার পূর্বাভাস সব দিক দিয়ে সত্য হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মঞ্চে গান করেন সুনিধি। তার গান শুনে আদেশ শ্রীবাস্তব তাকে ‘শাস্ত্র’ ছবিতে প্লেব্যাকের সুযোগ দেন।

মেরি আওয়াজ শুনো-তে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে সুনিধির কাছে প্লেব্যাকের সুযোগ আসতে থাকে। নয়ের দশকের শেষ দিকে বলিউডে সুনিধি-যুগের সূচনা। তার গলায় ‘মস্ত’ ছবির ‘রুকি রুকি সি’, ‘মিশন কাশ্মীর’-এর ‘বুমরো’ এবং ‘ফিজা’-র ‘মেহবুব মেরে’ তুমুল জনপ্রিয় হয়। তথাকথিত সুরেলা কণ্ঠ না হয়েও সুনিধি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নেন।

ঈষৎ ভাঙা গলাতেই তিনি অনন্য। ‘আজনবি’, ‘চামেলি’, ‘ধুম’,‘এহসাস’, ‘ইয়াদেঁ’, ‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’, ‘ওমকারা’, ‘আ জা নাচ লে’, ‘রব নে বনা দে জোড়ি’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘গুজারিশ’, ‘তিস মার খান’, ‘লভ আজ কাল’, ‘দিল ধড়কনে দো’-সহ অসংখ্য বক্সঅফিস সফল ছবিতে গান গেয়েছেন সুনিধি।

সুনিধির গানের ঘরানা স্বতন্ত্র। নিজস্ব কায়দায় গান করতেই ভালবাসেন তিনি। অন্য কোনও ঘরানার প্রভাব দেখা যায় না তার গায়কিতে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিলেও তার গানে পপ বা রকের প্রাধান্যই বেশি। গানের জন্য দশম শ্রেণির পরেই স্কুলজীবনে ইতি টানেন সুনিধি।

তিনি দিল্লির গ্রিনওয়ে মডার্ন স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার পরে আর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাননি। গানের কেরিয়ারেই মনোনিবেশ করেন। ২০০২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিচালক এবং কোরিওগ্রাফার ববি খানকে বিয়ে করেন সুনিধি। খুব গোপনে একান্ত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু এই বিয়ে সুনিধির বাবা মা মেনে নিতে পারেননি।

শোনা যায়, মেয়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যা’গ করেছিলেন তারা। ববি-সুনিধির দাম্পত্য মাত্র এক বছর পরেই ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের সময় মানসিক ভাবে বি’ধ্ব’স্ত সুনিধি থাকতেন অভিনেতা আন্নু কাপূর এবং তার স্ত্রী অরুণিতার সঙ্গে। তারা সুনিধির পাশে ছিলেন জীবনের কঠিন সময়ে।

পরবর্তী সময়ে সুনিধি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সুরকার হিতেশ সোনিকের সঙ্গে। দুজনের পরিচয় অনেকদিনের। সেই ‘মেরি আওয়ার শুনো’-র পর থেকেই। কিন্তু বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে প্রেমের সূত্রপাত সুনিধির বিয়ে ভাঙার পরেই। দুবছরের প্রেম পর্বের পরে তারা বিয়ে করেন ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল।

গোয়ায় একটি সাধারণ অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন দুই জনে। তারপর জমকালো পার্টি দেন মুম্বাইয়ে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম হয় তাদের ছেলের। সুনিধি তার নাম রেখেছেন তেগ। ব্যস্ত সূচি থেকে সময় বের করে সুনিধি যুক্ত থাকেন বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে। পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য প্রায়ই চ্যারিটি শো করে থাকেন। পাশাপাশি কোথাও প্রাকৃতিক বি’প’র্যয় হলে দু’র্গ’তদের সাহায্য করার জন্য সুনিধি সবসময়েই অগ্রণী মুখ। সূত্র : এবিপি

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/এ/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -