মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আসছে সিলেট আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি  » «   নারী বিশ্বকাপের জার্সি নিয়েও বিতর্ক  » «   কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্ল্যাহকে প্রত্যাহার  » «   বানিয়াচংয়ের শহীদ মিনার যেন ময়লার ভাগাড়!  » «   সুনামগঞ্জে মঞ্চস্থ হবে নবশিখার ‘কবর’  » «   সরকারি অগ্রগামী স্কুল এন্ড কলেজে বসন্ত বরণ  » «   সুনামগঞ্জে বিশ্বম্ভরপুরে এক শিশুকে গণধর্ষণ আটক ১  » «   গোলাপগঞ্জে প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১  » «   মেট্রোরেলের মকআপ ঢাকায়, উদ্বোধনের পরই প্রদর্শন  » «   সিলেটে এক গ্রামেই ৪০০ প্রতিবন্ধি  » «   ৩৮ পর্যন্ত ফুটবল খেলতে পারবে মেসি  » «   হিজাব পড়ে মসজিদে মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা  » «   জোড়া বোনের একজন অঙ্ক পড়ান, অন্যজন ইংরেজি!  » «   ভারতে হামলার হুমকি  » «  

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় সুগন্ধি ধান

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় সুগন্ধি ধান। বিদেশী ও উচ্চ ফলনশীল জাতের রকমারী জাতের ধানের ব্যাপক প্রসার ঘটায় দেশীয় জাতের ধান টিকতে পারছে না। অথচ দেশী ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বেশী, তেমনি বন্যার ঝুঁকিমুক্তও। তাছাড়া, ফলন কম হলেও স্বাদ ও অপূর্ব গন্ধের জন্য এই ধানের চাল এ বেশী দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য হাওরের হারানো ধানের জাত ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়।

অতীতে এদেশে দেশীয় প্রজাতির ধানই চাষ হতো। কৃষকেরা বিভিন্ন মওসুমে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরণের ধান দেশীয় প্রযুক্তিতে চাষ করতেন। এর বীজ নিজেরাই সংগ্রহ করতেন পরবর্তী মওসুমের জন্য। ফলন ভালো হওয়ার জন্য জৈবসার ব্যবহার করতেন, পোকা মাকড় দমন করতেন দেশীয় পদ্ধতিতে। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে আমাদের এই সুস্বাদু ও সুগন্ধি ধান। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পরিবর্তন হতে থাকে দৃশ্যপট। তখন শুরু হয় সবুজ বিপ্লব আন্দোলন। কম জমিতে বেশী ফসল উৎপাদনের সেই আন্দোলনে হৃমকি চলে আসে দেশীয় ধানের ওপর। উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান আবিস্কৃত হতে থাকে। বিদেশ থেকেও আমদানী হতে থাকে ধানের উচ্চ ফলনশীল জাত। সেই সঙ্গে অস্তিত্ব হারাতে থাকে দেশী জাতের ধান। ঝড় বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা এই ধান হাওরের কৃষকের ভরসা ও শক্তির প্রতীক হলেও কৃষকেরা বেশী ফলনের আশায় উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। গত চার দশক ধরে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে এসব ধান। এতে দেশের সার্বিক ফসল উৎপাদন বেড়েছে। প্রতিনিয়ত ফসলি জমি হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশে বার্ষিক ফসল উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো দেড় কোটি মেট্রিকটন। বর্তমানে সেটা সাড়ে তিন কোটি মেট্রিকটন ছাড়িয়ে গেছে। তবে এতে আমাদের দেশের ঐতহ্যবাহী ধানের জাত হারিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় প্রজাতির ধান উৎপাদনের সময় লাগে কম, যে কারণে বন্যা আসার আগে ফসল ঘরে তোলা যায়। অপরদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদনে সময় লাগে বেশী এবং প্রায় বছরই এই ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া, দেশী ধান চাষে কৃষকদের খরচও করতে হয় কম। যে কারণে উৎপাদন ব্যয় কম হয়, কৃষকেরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। সে যাই হোক, সময়ের তাগিদে কম জমিতে বেশী ফসল উৎপাদন করার উদ্দেশ্যে উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রসার ঘটাতে হবে এটা ঠিক। তবে পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যবাহী ধানও টিকিয়ে রাখতে হবে। যেমন করে এক সময় হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ এখন চাষ হচ্ছে, তেমনি দেশীয় প্রজাতির ধানও ফিরে আসবে স্বমহিমায়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/আরক/প/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -