মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আসছে সিলেট আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি  » «   নারী বিশ্বকাপের জার্সি নিয়েও বিতর্ক  » «   কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্ল্যাহকে প্রত্যাহার  » «   বানিয়াচংয়ের শহীদ মিনার যেন ময়লার ভাগাড়!  » «   সুনামগঞ্জে মঞ্চস্থ হবে নবশিখার ‘কবর’  » «   সরকারি অগ্রগামী স্কুল এন্ড কলেজে বসন্ত বরণ  » «   সুনামগঞ্জে বিশ্বম্ভরপুরে এক শিশুকে গণধর্ষণ আটক ১  » «   গোলাপগঞ্জে প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১  » «   মেট্রোরেলের মকআপ ঢাকায়, উদ্বোধনের পরই প্রদর্শন  » «   সিলেটে এক গ্রামেই ৪০০ প্রতিবন্ধি  » «   ৩৮ পর্যন্ত ফুটবল খেলতে পারবে মেসি  » «   হিজাব পড়ে মসজিদে মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা  » «   জোড়া বোনের একজন অঙ্ক পড়ান, অন্যজন ইংরেজি!  » «   ভারতে হামলার হুমকি  » «  

ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণা

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :ইন্টারনেটভিত্তিক সাইবার জগৎ এখন অপরাধের আখড়া। এমন কোনো অপরাধ নেই যা এই জগতে ঘটছে না। দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার থেকে শুরু করে যাবতীয় অপরাধ-প্রতারণার এক ভয়ঙ্কর ফাঁদে পরিণত হয়েছে দেশের সাইবার জগৎ।

বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককেন্দ্রিক নানা অপরাধ-প্রতারণা ঘটে চলছে অহরহ। সামান্য অসাবধানতার কারণে এর ব্যবহারকারী প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ পড়ছেন মারাত্মক হয়রানিতে।

মানুষ এখন কেবলই মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করেন না, টুকটাক পণ্য থেকে শুরু করে দামি পণ্য পর্যন্ত কেনা হচ্ছে অনলাইন থেকে। ফলে দিন দিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন শপিং ব্যবস্থা। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসংখ্য অনলাইন শপিং পেজ রয়েছে, যেগুলো নানা রকমের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে থাকে।

এরমধ্যে কিছু পেজ পাওয়া যায় যেগুলো কখনো কখনো এক ধরনের পণ্য দেখিয়ে অন্য ধরনের কিংবা নিম্নমানের পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। আবার, কিছু কিছু পেজে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের পরেও ভূল পণ্য দিয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সেই পেজ থেকেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না।

এরকমই একটি ভুঁইফোড় অনলাইন শপ Aesthetic Mods। যাদের অনলাইন প্রতারণার শিকার ঢাকার তরিকুল ইসলাম রাজন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজন গত ২ জানুয়ারি Aesthetic Mods এর পেজ থেকে কম্পিউটারের গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যাকপ্লেট অর্ডার করেন।

অর্ডার করার পরপরই টাকাটা বিকাশ করে পাঠিয়ে দেন। ৫ জানুয়ারি তিনি পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখেন তার অর্ডারকৃত পণ্যের সাথে ডেলিভারি পণ্যের সাইজের মিল নেই। এরপর সেই ফেসবুক পেজের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এটার জন্য ভুল স্বীকার করে। কিন্তু এর কোন দায়ভার নিতে তারা অপরাগতা প্রকাশ করে।

ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলাম রাজনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, Aesthetic Mods, একটি ফেসবুক পেইজ। এই পেইজটি পরিচালনা করেন শাওন ভুঁইয়া নামে এক ব্যক্তি।

এরা বিশেষ করে কম্পিউটার গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যাকপ্লেট বানিয়ে সেটা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিক্রি করে। আমি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে তাদের প্রচারণা দেখে তাদের ফেসবুক পেজের মেসেজে যোগাযোগ করে একটি ব্যাকপ্লেট অর্ডার করি।

এরপর তাদের পেজ থেকেই একপ্রকার প্রতারণার শিকার হই। কারণ তারা আমার অর্ডার করা কাঙ্ক্ষিত প্রোডাক্ট দেয়নি। ভুল প্রোডাক্ট দিয়ে আমার সাথে প্রতারণা করেছে।

Aesthetic Mods এর সাথে কথা বলে, গত ২ তারিখ বিকাশে ১৬০০ টাকা অগ্রিম পেমেন্ট করি, এর আগের রাতেই তাদের রুলস অনুযায়ী অর্ডার করি, ৫-১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রোডাক্ট পাবো।

২ তারিখ রাতেই ইনবক্সে কথায় কথায় উনি আমার গ্রাফিক্স কার্ডের সাইজ জানতে চান। আমি ঢাকার বাইরে থাকায় বললাম, সাইজ দিতে হলে আমাকে ১ দিন পরে দিতে হবে। যদি সাইজের জন্য সমস্যা হয়, আপাতত আমার কাজটা বন্ধ করেন।

আমি ঢাকায় এসে সাইজ দিচ্ছি। একটু পরেই উনি সাইজ পারফেক্ট বলে বললো সব ঠিক আছে, পারফেক্ট সাইজেই প্রোডাক্ট পাঠাবে। এরপর গত ৫ তারিখ বিকালে প্রোডাক্ট ডেলিভারি পাই।

কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ডের থেকে অনেকখানি বড় সাইজের ব্যাকপ্লেট পাই, যেটা পুরাই বেখাপ্পা। সেলারও স্বীকার করলো যে ভুল তাদের, কিন্তু তাদের সর‍্যি ছাড়া বলার কিছু নাই। তারা এই ভুলের জন্য কোনপ্রকার দায়ভার নিতে রাজি নয়।

ব্যাকপ্লেটের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কোনটাই মিল নেই। এরকম বেখাপ্পা জিনিস ডেলিভারি দিয়ে উনি আমাকে বলে, একটু মানিয়ে চলতে। উনারা নাকি ইচ্ছা করে এরকম ভুল করে না। আমার প্রশ্ন? উনাদের ভুলের জন্য কাস্টমার কেন ভুগবে!

ফেসবুকের টেক রিলেটেড গ্রুপে সমস্যাটি পোস্ট করার পর, প্রত্যেকেই আমাকে ভোক্তা অধিকারের শরণাপন্ন হতে বললো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ এ ঠিকানাবিহীন ফেসবুক পেজের কোন অভিযোগ নেওয়া হয়না।

এরপর সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করলে উনারা আমাকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করতে বলে। সে মোতাবেক গত ১৯ জানুয়ারি ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করি। যার সাধারণ ডায়েরিং নংঃ ১০১৫। উল্লেখ্য, থানা থেকেই ডিউটি অফিসার সেই প্রতারককে কয়েক বার ফোন করলেও, তিনি সেটি রিসিভ করেননি।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/প/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -