সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
কেমন আছেন মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত আমাদের প্রিয়জনেরা!  » «   এবার প্রথম সিলেটে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক  » «   কানাইঘাটে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, আটক ১  » «   জগন্নাথপুরে ভূয়া লন্ডনি কন্যা সহ গ্রেফতার ৩  » «   নবীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জগন্নাথপুরের যুবক নিহত  » «   আরও প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনছে সরকার  » «   যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত বিয়ানীবাজারের কামাল  » «   চীনের ল্যাবেই তৈরি হয়েছিল করোনা  » «   ‘চাল যায়, চাল আসে-তাই নিয়ে সবাই হাসে’  » «   করোনায় শ্রীমঙ্গলে সরব প্রশাসন  » «   সিঙ্গাপুরে ২৬ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   যে কারণে করোনা রোগীর লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না  » «   করোনা পরীক্ষার মেশিন আসতেই চিকিৎসকের স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন  » «   মহামারির কারণে যে শহরে রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে আছে  » «   বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভিন্ন আচরণ!  » «  

সিলেটে এক গ্রামেই ৪০০ প্রতিবন্ধি

আমার বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারেরই কোনো না কোনো সদস্য প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধির পাশাপাশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও আছে কেউ কেউ।

ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনলাইন বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত সিলেট প্রতিনিধির করা একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রাম। গ্রামের জনসংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার। এই একটি গ্রামেই প্রায় ৪০০ জন প্রতিবন্ধি। এর মধ্যে শিশুর হারই বেশি বলে জানিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

তবে এক গ্রামে এতো প্রতিবন্ধীর বিষয়ে জানে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনসিডিসি)। এনসিডিসি প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. শাহনেওয়াজ পারভেজ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, একটি গ্রামে ৪০০ জন প্রতিবন্ধি আছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য আসেনি আমাদের কাছে। তবে এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবো।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, আমতৈল গ্রামে প্রতিবন্ধি শিশুর সংখ্যা তিনশ’র বেশি। তাদের বেশিরভাগ জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধি।

ধারণা করা হয় অপুষ্টি, নিজেদের বংশধরদের মধ্যে পারিবারিক ও মায়ের বাল্যবিয়ে, গর্ভকালীন যত্নের অভাব, আয়োডিনের ঘাটতি, আর্সেনিকের হার, বাড়িতে প্রসবসহ নানা কারণে এমনটি হতে পারে।

আমতৈল গ্রামে ৫০০টির মতো পরিবার আছে, এরমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারেরই কোনো না কোনো সদস্য প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধির পাশাপাশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও আছে কেউ কেউ।

এক গ্রামে এতা প্রতিবন্ধীর বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। বিজনেস স্ট্যার্ন্ডার্ডকে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই অ্যালার্মিং। নিশ্চয় ওই গ্রামে এমন কিছু আছে যার কারণে এতো প্রতিবন্ধী শিশু জন্মাচ্ছে। যদি যেখানে আর্সেনিক বা অন্য কোনো কারণে এতো প্রতিবন্ধী শিশু জন্মায় তা দূর করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওই গ্রামে প্রতিবন্ধীতার কারণ অনুসন্ধান ও গবেষণা জরুরি। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো উচিত যাতে তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আমতৈল গ্রামের মাওলানা আবুল খায়েরের দুই ছেলে- রাফি মিয়া (৬) ও সাফি মিয়া (২)। তারা হাঁটাচলা করতে পারে না। কথাও বলতে পারে না। জন্মের পর থেকেই শিশু দুটি এমন সমস্যায় ভুগছে।

নিজের ছেলেদের ব্যাপারে মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, যে বয়সে এসে ছেলে হাঁটতে শিখে সেই বসে এসে দেখি আমার ছেলেরা উঠে বসতেও পারে না। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কথা ফোটেনি তাদের মুখে। ছেলেদের নিয়ে সিলেট ও ঢাকায় অনেক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

আবুল খায়ের ছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গেলেও সে সামর্থ নেই আবদুল মতিনের। তার মেয়ে মৌসুমী বেগম এ বছর ১৮ তে পা দিয়েছে। এখনও কোলে তুলে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে হয়। জন্মের পর কোনোদিনও হাঁটতে পারেননি মৌসুমী।

বিশ্বনাথ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী শনাক্ত করতে সর্বশেষ ২০১৩ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। এরপর থেকে সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবন্ধিদের নাম তালিকাভুক্ত করাতে হয়। কেউ প্রতিবন্ধি ব্যক্তিকে কার্যালয়ে এনে নাম তালিকাভুক্ত না করালে তাকে গণনায় ধরা হয় না। এ পর্যন্ত উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধি হিসাবে জরিপের আওতায় এসেছেন ৫৯৯ জন। জরিপের আওতার বাইরেও কিছু প্রতিবন্ধি থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা।

সমাজসেবা কর্মকর্তারা জানান, এই ইউনিয়ন তথা পুরো উপজেলার মধ্যে আমতৈল গ্রামেই সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধি রয়েছে। জরিপের আওতায় আসাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ’ প্রতিবন্ধিই আমতৈল গ্রামের বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা।

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ও রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এই গ্রামে প্রতিবন্ধী লোকের সংখ্যা প্রায় ৪শ’। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ’ই শিশু। ওই প্রতিবন্ধিদের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যক সরকারি ভাতা পান। আর ৮০ শতাংশের প্রতিবন্ধি কার্ড রয়েছে। তবে চলতি বছরের মধ্যে শতভাগ প্রতিবন্ধিকে ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কেন এই গ্রামে এতো প্রতিবিন্ধী- এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রহমান মুসা বলেন, ‘‘এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। গ্রামের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। দারিদ্রতা, পুষ্টিহীনতা, মাতৃকালীন স্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে এখানকার অনেক শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিচ্ছে। কেউবা আবার জন্মের পর বিভিন্ন অসুখে ভুগে প্রতিবন্ধি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এখানে জন্মহারও অনেক বেশি।’’

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করেন ডা. নাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, যে কোনো কারণে মানুষ প্রতিবন্ধী হতে পারে। অপুষ্টি, মায়ের বাল্যবিয়ে, গর্ভকালীন কেয়ারের অভাব, আয়োডিনের ঘাটতি, আর্সেনিকের হার, বাড়িতে ডেলিভারিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মাতে পারে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণেও অনেক সময় প্রতিবন্ধী শিশু জন্মাতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা একটি অন্যতম সমস্যা। সে কারণে সিলেটের ওই গ্রামে প্রতিবন্ধীর হার বেশি হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে গবেষণা করা জরুরি।

ওই গ্রামের বিষয়ে সিলেট সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডন বলেন, এক গ্রামে এতো সংখ্যক প্রতিবন্ধি থাকা খুবই আশঙ্কাজনক খবর। পুষ্টিহীনতা কিংবা আয়রনের অভাবে এমনটি হতে পারে। তবে আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। তাই সঠিক কারণটি বলতে পারবো না। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

(আমার বাংলাদেশ/রু-আহমেদ/প/ম )

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -