শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
পাপুলের সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন কুয়েতের সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার  » «   করোনায় আক্রান্ত অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে ভর্তি  » «   জকিগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে গাজা সহ ১জনকে আটক করলো পুলিশ  » «   স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতি রাখা যাবে না  » «   যে মসজিদের আযান শুনলো তুর্কিবাসী  » «   করোনা শনাক্ত চিংড়ির প্যাকেটে ,নিষিদ্ধ করল চীন  » «   সিলেটের জকিগঞ্জে গুরুসদয় কলেজে ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ  » «   রাতের সিলেটে ভয়ঙ্কর পানপার্টি  » «   গত দুই দিনে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছেছে ৩৬২ জন বাংলাদেশি  » «   কক্সবাজারে ঈদুল আযহা পর্যন্ত সব পর্যটন স্পট বন্ধ  » «   বগুড়া-১ উপ-নির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই করতেই হবে:সিইসি  » «   করোনা থেকে মুক্তি মিলেছে’মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার  » «   দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৫  » «   ওসমানীতে হাই-ফ্লো নজেল ক্যানেলা প্রদান করলেন”পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   সিলেটে লক্ষাধিক জাল টাকার নোটসহ দুজনকে আটক করলো র‍্যাব  » «  

কমিউনিটি সংক্রমণে করোনা ভাইরাস

মতিউল বারী খুর্শেদ  : বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে কমিউনিটি সংক্রমণ হয়ে গেছে। এটি ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো টেস্ট আর ঘরে অবস্থান করা। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পর বিদেশীরা দলে দলে বিশেষ বিমানে করে ঢাকা ত‍্যাগ করছেন। এরমধ্যে রয়েছেন শতাধিক কূটনীতিকও। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমগ্র বাংলাদেশকে ঝুঁকি পূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সাধারণ ছুটি বা সন্ধ্যার পর কঠোরতায় জনগণকে ঘরের মধ্যে রাখা যাবে না। ঘরে রাখার জন্য প্রয়োজনে কারফিউ। সরকারের উচিত হবে এখনই কারফিউ জারি করা। একক, দশক, শতক, কদিন পর হবে হাজারে হাজার। কারণ আমরা এখনও রাস্তাঘাট, হাট-বাজারে ঘুরে বেড়াই।
বড় দুঃসময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। অর্থনৈতিক সংকট, স্বাস্থ্য ঝুঁকি সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
তবে এই মুহুর্তে অর্থনীতির কথা চিন্তা না করে বর্তমান এই মহামারীর বিপদ কিভাবে কাটানো যায় সেটাই চিন্তা করা উচিত৷ সবকিছুই যেহেতু বন্ধ সেখানে সাধারণ ছুটি নাম দিয়ে এটাকে হালকা করা হচ্ছে কেন? মনে রাখতে হবে, এটি একটি সাময়িক মন্দা, মহামারী চলে যাবার পর সবই দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী৷
বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে দ্রুত করোনা টেস্টের সুযোগ করে দেয়া হোক। সকল বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে টেস্টের প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা করা হোক। এজন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, চিকিৎসক ও উপযুক্ত পিসিআর ল‍্যাব। আমরা সব জায়গায় পিছিয়ে আছি। ভারত পাকিস্তানে বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে।

নইলে সরকারি হিসেবে হয়তো করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার সংখ্যা হবে ৮, ১০ ও ১২ জন। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাবে আরও ৮, ১২ ও ১৫ জন। কারণ আমরা তো টেস্টই করছি না। দৈনিক দশ হাজার মানুষের টেস্ট হলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত বোঝা যেতো।

ব্যাপকহারে পরীক্ষা আরো এক মাস আগে থেকেই শুরু করা উচিত ছিল। বিমানবন্দরেই পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই করা হয়নি সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে। এতদিন ‘নো টেস্ট নো করোনা’ এই নীতি আমরা অনুসরণ করেছি।

আমরা সবসময় আত্মতুষ্টিতে ভুগি এইভেবে যে- বাংলাদেশে কখনও ইতালি-আমেরিকার মতো এতো মানুষ আক্রান্ত হবে না। এমন ধারণা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হতে শুরু করেছে।

অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্হাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা আশংকা ব‍্যক্ত করেছে। ১৪ এপ্রিল ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেওয়া তথ‍্য অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে টেস্টের পরিমাণ সর্বনিম্ন। প্রথমদিকে এদেশে টেস্ট করা হত, মোটে ত্রিশ-চল্লিশটা। এখন করা হচ্ছে ১৫০০ – ২০০০। গড়ে প্রতি নয় জনে একজন আক্রান্ত ধরা পড়ছে। তাই বলা যায়, টেস্ট যদি একদিনে ১০হাজার করা হয় তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৫০০। তাহলে এখন উপায়?

উপায় একটাই, টেস্টের পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া। সবার উদ্দেশ্য বলব, জ্বর, কাশি, শ্বাসকস্ট হলেই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ফোনে জানিয়ে টেস্ট করানোর ব‍্যবস্থা করুন। সরকারকে বলবো, যত বেশি পারা যায় টেস্টের পরিমান বাড়িয়ে দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা ( কোভিড ১৯ ) ভাইরাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে টেস্টের কোনো বিকল্প নেই।

 (আমার বাংলাদেশ/কাআহমেদ// )

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে(লাইনে) ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by: -